প্লাস্টিক সার্জারি করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি, ইসলাম কী বলে

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সৌন্দর্যপ্রিয়। পরিপাটি থাকা, সুন্দর পোশাক পরা কিংবা নিজেকে পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় করে তোলার ইচ্ছা মানুষের সহজাত। ইসলামও এই

2026-09-11T22:48:18+00:00
2026-09-11T22:48:18+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
প্লাস্টিক সার্জারি করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি, ইসলাম কী বলে
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সৌন্দর্যপ্রিয়। পরিপাটি থাকা, সুন্দর পোশাক পরা কিংবা নিজেকে পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় করে তোলার ইচ্ছা মানুষের সহজাত। ইসলামও এই প্রবণতাকে অস্বীকার করেনি। বরং বৈধ উপায়ে সৌন্দর্যচর্চার অনুমতি দিয়েছে। তবে সৌন্দর্য বাড়ানোর নামে আল্লাহপ্রদত্ত স্বাভাবিক শারীরিক গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন আনার বিষয়টি ইসলামে ভিন্নভাবে দেখা হয়েছে।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকেই ভালোবাসেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯১) অর্থাৎ নিজেকে সুন্দর ও পরিপাটি রাখা নিষিদ্ধ নয়। তবে সৌন্দর্য অর্জনের পদ্ধতিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামে সাময়িক সাজসজ্জা ও স্থায়ী শারীরিক পরিবর্তনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ক্রিম, লোশন, প্রাকৃতিক উপাদান বা মেকআপের মতো সাময়িক প্রসাধনী, যাতে শরীরের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন আসে না, তা ক্ষতিকর বা অপবিত্র উপাদানমুক্ত হলে জায়েজ। কিন্তু চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া শুধু সৌন্দর্য বা ফ্যাশনের জন্য অস্ত্রোপচার, স্থায়ী ইনজেকশন বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে স্বাভাবিক অঙ্গের আকৃতি বদলে ফেলা শরিয়তসম্মত নয়। (ইমাম কুরতুবি, ‘আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন’, ৭/১৪৪)

কুরআনে শয়তানের একটি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে বলা হয়েছে, সে মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তনের দিকে প্ররোচিত করবে। (সুরা নিসা, আয়াত : ১১৯)। একইভাবে হাদিসে সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে উলকি করা, ভ্রু উপড়ে ফেলা এবং দাঁতের স্বাভাবিক গঠনে কৃত্রিম পরিবর্তনের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৮৮৬)


তবে চিকিৎসার প্রয়োজন বা শারীরিক ত্রুটি সংশোধনের বিষয়টি আলাদা। জন্মগত ত্রুটি, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, এসিড সন্ত্রাস বা রোগে বিকৃত অঙ্গ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য অস্ত্রোপচার করা বৈধ। সাহাবি আরফাজাহ ইবনে আসআদের নাক যুদ্ধে কাটা যাওয়ার পর নবীজি (সা.) তাকে কৃত্রিম নাক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪২৩২)

একইভাবে জন্মগত গায়ের রং কোনো ত্রুটি নয়। মানুষের গায়ের রং সাদা, কালো বা শ্যামলা হওয়া আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্র্য। তাই শুধু সৌন্দর্যের জন্য ক্ষতিকর উপায়ে ত্বকের স্বাভাবিক রং পরিবর্তন করাও ইসলামের সৌন্দর্যচর্চার ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়; আল্লাহর কাছে মর্যাদার ভিত্তি হলো তাকওয়া। (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১৩)

সুতরাং ইসলাম সৌন্দর্যচর্চাকে নিষেধ করেনি; বরং বৈধ সাজসজ্জা ও চিকিৎসার প্রয়োজনের সঙ্গে কৃত্রিম ও অপ্রয়োজনীয় স্থায়ী পরিবর্তনের সীমারেখা স্পষ্ট করেছে।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   প্লাস্টিক সার্জারি  সৌন্দর্য বৃদ্ধি  ইসলাম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: