ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনের অন্যতম বিশেষত্ব হলো, এতে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন। এ বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দান করেন। (সহিহ বুখারি : ৯৩৫)
তাই জুমার দিনে বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদত করা উচিত। বিশেষ করে দোয়া কবুলের সেই বিশেষ সময়টি পাওয়ার আশায় আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন, গুনাহ মাফ ও দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণ চাওয়া যেতে পারে।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন বিষয়ে সুন্দর কিছু দোয়া শিখিয়েছেন। জুমার দিনে এসব দোয়া বেশি বেশি পড়া যেতে পারে।
১. দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের দোয়া
আল্লাহ তাআলা বলেন— رَبَّنَآ اٰتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ
অর্থ : ‘হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’
— সূরা আল- বাকারা : ২০১
এই দোয়ায় দুনিয়া ও আখেরাত— উভয় জীবনের কল্যাণ এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি চাওয়া হয়েছে।
২. হেদায়াতের ওপর অটল থাকার দোয়া
আল্লাহ তাআলা বলেন— رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
অর্থ : ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদের হেদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।’
— সূরা আলে ইমরান : ৮
মানুষ যেন হেদায়াত পাওয়ার পর পথভ্রষ্ট না হয় এবং আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারে—এই দোয়ায় সেই প্রার্থনা করা হয়েছে।
৩. গুনাহ মাফ ও নেককারদের সঙ্গে মৃত্যুর দোয়া
আল্লাহ তাআলা বলেন— رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
অর্থ : ‘হে আমাদের রব, আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের পাপসমূহ মোচন করুন এবং আমাদের নেককারদের সঙ্গে মৃত্যু দিন।’
— সূরা আলে ইমরান : ১৯৩
গুনাহ থেকে ক্ষমা এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে উত্তম পরিণতি লাভের জন্য এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে।
৪. নিজের, বাবা-মা ও মুমিনদের জন্য দোয়া
আল্লাহ তাআলা বলেন— رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
অর্থ : ‘হে আমার রব, আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব, আমার দোয়া কবুল করুন। হে আমাদের রব, যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আমাকে, আমার বাবা-মাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করুন।’
— সূরা ইবরাহিম : ৪০-৪১
এই দোয়ায় নিজের পাশাপাশি সন্তান-সন্ততি, বাবা-মা এবং সব মুমিনের জন্য কল্যাণ ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে।
জুমার দিন তাই নামাজ, দরুদ পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে সময় কাটানো উচিত। বিশেষ করে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি পাওয়ার আশায় আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের প্রয়োজনের পাশাপাশি পরিবার, বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি ও সব মুসলিমের জন্যও দোয়া করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের দোয়া কবুল করুন, গুনাহ ক্ষমা করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন। আমিন।
সময়ের আলো/জোই