হতাশা থেকে মুক্তি পেতে ‍যা করবেন

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

‘আল্লাহ হয়তো আমাকে আর ক্ষমা করবেন না’, ‘আমার দ্বারা ভালো কিছু সম্ভব নয়’ কিংবা ‘আমার জীবনে আর কোনোদিন সাফল্য আসবে

2026-09-10T12:04:10+00:00
2026-09-10T12:04:10+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
হতাশা থেকে মুক্তি পেতে ‍যা করবেন
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
‘আল্লাহ হয়তো আমাকে আর ক্ষমা করবেন না’, ‘আমার দ্বারা ভালো কিছু সম্ভব নয়’ কিংবা ‘আমার জীবনে আর কোনোদিন সাফল্য আসবে না’—জীবনের কঠিন সময়ে এমন হতাশার কথা অনেকের মনেই আসে। ব্যর্থতা, ভুলত্রুটি কিংবা পাপের ভারে মানুষ যখন ভেঙে পড়ে, তখন অনেকেই আল্লাহর কাছে ফিরে আসার বদলে তাঁর রহমত থেকেই নিরাশ হয়ে যায়।

অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো, আল্লাহর প্রতি সবসময় ভালো ধারণা ও আশা রাখতে হবে। বান্দা তার রবের প্রতি যেমন ধারণা পোষণ করে, আল্লাহর সঙ্গে তার আচরণও তেমনই হয়। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা পোষণ করে, আমি তার সঙ্গে তেমনই আচরণ করি; এবং সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমি তার সঙ্গেই থাকি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫)

ইসলামে আল্লাহর প্রতি এমন ইতিবাচক ও আশাবাদী বিশ্বাসকে বলা হয় ‘হুসন উজ-জান্নি বিল্লাহ’। অর্থাৎ, আল্লাহর রহমত, প্রজ্ঞা ও সিদ্ধান্তের প্রতি ভালো ধারণা রাখা।

জীবনে চেষ্টা করার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে হতাশ হওয়া উচিত নয়। কারণ, মানুষ ভবিষ্যৎ জানে না; কিন্তু আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে প্রজ্ঞা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। মদিনায় হিজরতের আগে মক্কার কঠিন সময়ে তিনি হজের মৌসুমে বিভিন্ন গোত্রের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলেন। একে একে ছাব্বিশটি গোত্রের কাছে দাওয়াত দেওয়ার পরও প্রত্যেকেই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এমনকি অনেকে তাঁকে কটূক্তিও করেছিল। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ৪/৩২২-৩৪০, দারু হিজর, কায়রো, ১৯৯৮)

এত প্রত্যাখ্যানের পরও নবীজি (সা.) হতাশ হননি। আল্লাহর ওপর তাঁর আস্থা অটুট ছিল। পরবর্তী সময়ে মদিনার মানুষের মাধ্যমে ইসলামের বিস্তারের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

তাই কোনো চাকরি না পাওয়া, ব্যবসায় ক্ষতি হওয়া কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে জীবনের শেষ বলে মনে করা উচিত নয়। হতে পারে, আল্লাহ এর মাধ্যমে কোনো ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছেন। হয়তো এর পরিবর্তে তিনি আরও ভালো কিছু দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। মানুষের কাজ হলো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখা।

মানুষ ভুল করবেই। কেউ যদি বারবার একই পাপে জড়িয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার মনে এমন ধারণা ঢুকিয়ে দিতে পারে—‘তোমার আর ক্ষমা নেই।’ এই হতাশা মানুষকে তওবা থেকে দূরে সরিয়ে আরও পাপের দিকে ঠেলে দেয়।

কিন্তু আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ নয়। মহান আল্লাহ ‘আল-গাফফার’—অবিরাম ক্ষমাকারী এবং ‘আল-ওয়াদুদ’—পরম প্রেমময়।


রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বনি আদমের প্রত্যেক সন্তানই ভুল করে, আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা, যারা নিয়মিত তওবা করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)

তিনি আরও বলেছেন, ‘আল্লাহর সুন্দর ইবাদতের অন্যতম নিদর্শন হলো তাঁর প্রতি সুধারণা রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৭১০)

অর্থাৎ, মানুষ যত বড় ভুলই করুক না কেন, আল্লাহর ক্ষমার ওপর বিশ্বাস রেখে আন্তরিকভাবে তাঁর কাছে ফিরে আসতে হবে। পাপের কারণে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সমাধান নয়।

আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখার অর্থ এই নয় যে, কেউ ইচ্ছা করে বারবার পাপ করবে আর মনে করবে—‘আল্লাহ তো আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’ এটি সুধারণা নয়, বরং আত্মপ্রবঞ্চনা।

তাবেয়ি ইমাম হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘প্রকৃত মুমিন আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখে, যার ফলে সে নেক আমল বা সৎকাজে আত্মনিয়োগ করে। পক্ষান্তরে অবাধ্য পাপাচারী আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা রাখে, যার কারণে সে খারাপ কাজেই লিপ্ত থাকে।’ (ইবনে আবিদ দুনিয়া, হুসন উজ-জান্নি বিল্লাহ, পৃষ্ঠা : ৩৯, হাদিস : ১৯, দারু ইবনি কাসির, বৈরুত, ১৯৮৭ খ্রি.)

অর্থাৎ, আল্লাহর প্রতি সত্যিকারের ভালো ধারণা মানুষকে ভালো কাজের দিকে এগিয়ে নেয়। সে পাপকে হালকা করে দেখে না; বরং ভুল হলে দ্রুত তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করে।

শয়তান মানুষকে হতাশ করতে চায়। পাপের পর অপরাধবোধ তৈরি করে সে মানুষকে বোঝাতে চায় যে, তার আর ফেরার পথ নেই। অথচ আল্লাহ মানুষকে হতাশ না হয়ে তাঁর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করতে চান...।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ২৭)

তিনি আরও ঘোষণা করেছেন, সৎকর্মশীলদের পরিশ্রমের প্রতিদান তিনি কখনো নষ্ট করেন না। (সুরা কাহফ, আয়াত : ৩০)

তাই জীবনে যত কঠিন সময়ই আসুক, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। ব্যর্থতা মানেই সব শেষ নয়, আর পাপ মানেই আল্লাহর দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। বরং প্রতিটি কঠিন সময় মানুষকে নিজের ভুল বুঝতে, নিজেকে সংশোধন করতে এবং আল্লাহর আরও কাছে ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে পারে।

আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখুন, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করুন, ভুল হলে তওবা করুন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রাখুন। কারণ, মুমিনের জীবনে হতাশার চেয়ে আল্লাহর রহমতের আশা সবসময়ই বড়।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   হতাশা  মুক্তি  ইসলাম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: