রিজিক আল্লাহর দেওয়া অন্যতম এক অনন্য নেয়ামত। সাধারণত রিজিক বলতে আমরা কেবল খাদ্যসামগ্রী ও ধন-সম্পদকেই বুঝে থাকি, তবে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। বরং রিজিক হলো আমাদের জীবনোপকরণের যাবতীয় সবকিছু। রিজিক সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর।
তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে (লওহে মাহফুজে) রয়েছে’ (সুরা হুদ : ৬)। অপর আরেকটি আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রিজিক নিয়ে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘আকাশে রয়েছে তোমাদের রিজিক ও প্রতিশ্রুত সবকিছু’ (সুরা জারিয়াত : ২২)।
অথচ আমরা প্রায়ই মনে করি— অমুক কাজটি না করলে, অমুক ব্যক্তির ওপর ভরসা না রাখলে কিংবা অমুক মানুষটি জীবনে না থাকলে বুঝি আমরা চলতে পারতাম না; আমাদের ভালো থাকায় বাধা সৃষ্টি হতো বা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা অসম্ভব হতো। এটি আমাদের একটি নিছক ভুল ধারণা ছাড়া আর কিছু নয়।
সামান্য বিষয় নিয়ে হতাশ হয়ে পড়া বা ভেঙে পড়া কেবল শয়তানের প্ররোচনা। শত চেষ্টার পরও অনেক সময় মানুষের রিজিক কমবেশি হতে পারে, যা মূলত আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক ধরনের পরীক্ষা। এ বিষয়ে মহান রব আমাদের সতর্ক করে বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কখনো ভয়ভীতি, কখনো অনাহার, কখনো তোমাদের জানমাল ও ফসলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। (তবে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ করতে হবে) তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও’ (সুরা বাকারা : ১৫৫)। পার্থিব জীবনে নানা পরিস্থিতি ও অবস্থার কারণে মানুষ রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগে।
অথচ আল্লাহ তায়ালা রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত টেনশন না করতে অভয়বাণী শুনিয়েছেন, ‘তিনি তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যার উৎস সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক : ৩)
আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক আমাদের রিজিক সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায় এবং সঠিক উৎস থেকেই আমাদের কাছে পৌঁছে যাবে। এর চেয়ে বড় নেয়ামত আর কী হতে পারে, যেখানে আমাদের রিজিকের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিয়েছেন! রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সব সৃষ্টির ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন, আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে, তখন আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর’ (সহিহ মুসলিম : ২৬৫৩)।
এ প্রসঙ্গে ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর একটি চমৎকার উক্তি স্মরণ করা যায়, ‘যা কিছু তোমার জন্য লিখিত, সেটি পাহাড়ের চূড়ায় থাকলেও তোমারই হবে; আর যা কিছু তোমার জন্য লেখা হয়নি, সেটি দুই ঠোঁটের মধ্যখানে থাকলেও তোমার হবে না।’
তাই রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। সুতরাং আসুন রিজিক নিয়ে অমূলক দুশ্চিন্তা পরিহার করি এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সর্বাবস্থায় আমাদের মহান রব ‘রাজ্জাক’-এর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে এই তওফিক দান করুন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও