কিয়ামতের দিন হবে মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও ভয়াবহ দিন। সেদিন মানুষ নিজের আমল ও পরিণতি নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় থাকবে। একটু সুপারিশের আশায় মানুষ নবীদের কাছে ছুটে যাবে। একপর্যায়ে তারা শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে আসবে। আল্লাহর অনুমতি নিয়ে নবীজি (সা.) সেদিন তাঁর উম্মতের জন্য সুপারিশ করবেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নবীকে একটি বিশেষ দোয়া কবুল হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। অন্য নবীরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সুযোগ দুনিয়াতেই গ্রহণ করেছেন। কিন্তু নবীজি (সা.) সেই বিশেষ দোয়াটি নিজের জন্য দুনিয়ায় ব্যবহার করেননি। তিনি তা কিয়ামতের দিন তাঁর উম্মতের জন্য সুপারিশের কাজে ব্যবহার করবেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৮৬৩)
আরেক হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা নবীজি (সা.)-কে দুটি সুযোগের একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। এর একটি ছিল তাঁর উম্মতের অর্ধেককে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করানো। অন্যটি ছিল উম্মতের জন্য ইচ্ছামতো সুপারিশ করার সুযোগ। নবীজি (সা.) উম্মতের জন্য সুপারিশ করার সুযোগটিই বেছে নেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪৩১৭)
তবে নবীজি (সা.)-এর সুপারিশ পাওয়ার আশা মানে গুনাহকে হালকা করে দেখা নয়। বরং তাঁর সুপারিশ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা একজন মুমিনকে আল্লাহর আনুগত্য, নামাজ, তওবা ও সৎকাজের দিকে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে। কারণ সুপারিশও আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টির অধীন।
তাই দুনিয়ায় থাকতেই আমাদের উচিত আল্লাহর প্রতি ঈমান দৃঢ় করা, রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা। নবীজি (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য যে ভালোবাসা ও সুপারিশের আশা রেখে গেছেন, তা আমাদের জন্য বড় আশার বিষয়। একই সঙ্গে এটি আল্লাহর আনুগত্যে ফিরে আসারও এক গভীর আহ্বান।
সময়ের আলো/এসএকে