ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পুঁজিবাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও নিম্নমুখী হয়েছে। একই সাথে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কেটে যাওয়ার আশাবাদে চাঙা হচ্ছে এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে এশিয়ার বাজারগুলোতে লেনদেন শুরুর পর অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম সর্বোচ্চ ১ দশমিক 6 শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
গ্রিনউইচ মান সময় রাত ২টা পর্যন্ত আগামী আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ফিউচারের দাম নেমে আসে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় মাত্র ৭ শতাংশ বেশি।
এর আগে বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হুঁশিয়ারির পর ব্রেন্টের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার ছাড়িয়েছিল। ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, ইরান ‘আচরণ ঠিক না করলে’ যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা করবে। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা কার্যকর হওয়ার ঘোষণায় বাজারে স্বস্তি ফেরে।
এই ইতিবাচক সংকেতের জেরে চার মাস ধরে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চলা বিঘ্ন দূর হওয়ার প্রত্যাশায় এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে সূচকের বড় উত্থান ঘটেছে। জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ প্রাথমিক লেনদেনেই ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়।
এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১ শতাংশের বেশি এবং তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে এই ধারার বিপরীতে হংকংয়ের হ্যাং সেন সূচক ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে মার্কিন স্টক ফিউচারেও ইতিবাচক হাওয়া লেগেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার প্রায় ০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক ফিউচার প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার (১৭ জুন) ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) ‘তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা’ নিয়ে বলবৎ হয়েছে।
তার দেওয়া তথ্যমতে, চুক্তি অনুযায়ী ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
তবে এই ঘোষণার পর বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌ চলাচল কতটা স্বাভাবিক হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, মাইন এবং মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গিয়েছিল।
বর্তমানে ৫০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগর ছেড়ে এই প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জাহাজ পরিবহন কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, নিরাপদ রুট ও চলাচলের বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এই সপ্তাহের শুরুতে বিশ্বের অন্যতম বড় জাহাজমালিক সংগঠন ‘বিমকো’ এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো সময়সূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
সংগঠনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইয়াকব লারসেন সোমবার এক প্রতিক্রিয়ায় সতর্ক করে বলেন, বিস্তারিত তথ্যের অভাব এবং অতীতের অতিরিক্ত আশাবাদী আশ্বাসের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এই মুহূর্তে জাহাজ চলাচল শুরু করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি জাহাজ মালিকদের পূর্ণাঙ্গ ঝুঁকি মূল্যায়ন জারি রাখার পাশাপাশি নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
সময়ের আলো/জেডি