যুদ্ধাবসানে শি জিনপিং ও পুতিনের ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক অপ্রত্যাশিত বিবৃতিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে

2026-06-18T12:52:39+00:00
2026-06-18T12:58:51+00:00
 
  শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬,
১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধাবসানে শি জিনপিং ও পুতিনের ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম  আপডেট: ১৮.০৬.২০২৬ ১২:৫৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক অপ্রত্যাশিত বিবৃতিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘নিরপেক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নসাৎ করার ক্ষেত্রে বেইজিং বা মস্কো— কোনো পক্ষই মার্কিন প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করেনি।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। দুই বিশ্বনেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, আমি শুধু তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তাদের ভূমিকার কারণে পরিস্থিতি অনেক সহজ হয়েছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি চীন এবং প্রেসিডেন্ট শি-কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন। আমি এর প্রশংসা করি। একই সঙ্গে আমি ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই, তিনিও অত্যন্ত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। তারা চাইলে আমাদের জন্য পরিস্থিতি আরও অনেক বেশি কঠিন করে তুলতে পারতেন।

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য জাপান থেকে শুরু করে ইউরোপের মতো দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্রদের প্রতি তার সাম্প্রতিক সমালোচনার ঠিক বিপরীত। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান চালানো কিংবা ইরান কর্তৃক অবরুদ্ধ কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী মুক্ত করার প্রচেষ্টায় মার্কিন মিত্ররা পর্যাপ্ত সাহায্য না করায় ট্রাম্প এর আগে তাদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

অবশ্য তেহরানের সঙ্গে মস্কো ও বেইজিংয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছিল, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে একটি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, বেইজিং তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের সামরিক হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছিল। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ চলাকালীন বেইজিং সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন পণ্য তেহরানে সরবরাহ করেছিল এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছিল।

কিন্তু এই সমস্ত সমীকরণকে পাশে সরিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংঘাত নিরসনে শি জিনপিং যথেষ্ট সাহায্য করেছেন এবং তিনি ইরানকে কোনো ভারী সামরিক অস্ত্র বা কাঁধ থেকে নিক্ষেপণযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাননি।

ট্রাম্প বলেন, চীন চাইলে ছয়টি যুদ্ধজাহাজসহ তেলবাহী জাহাজ পাঠাতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। প্রেসিডেন্ট শি আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন এবং আমার মনে হয় সংঘাতের সমাধানে তার বড় ভূমিকা ছিল।

এদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেইজিংয়ের অবস্থান সুস্পষ্ট ও ধারাবাহিক ছিল এবং তারা যুদ্ধাবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করে গেছে।

/কহু


  বিষয়:   ইরান  যুক্তরাষ্ট্র  রাশিয়া  চীন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: