ইরান-সমর্থিত একটি হ্যাকিং অভিযানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে নতুন ও সংশোধিত অভিযোগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ডিওজে জানায়, অভিযুক্তরা ইরানের ‘মাবনা ইনস্টিটিউট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), সরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে সাইবার হামলা ও তথ্য চুরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
ডিওজে বলেছে, এসব হ্যাকিং অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের শত শত বিশ্ববিদ্যালয়, কয়েক ডজন মার্কিন কোম্পানি এবং অন্তত পাঁচটি অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা লক্ষ্যবস্তু ছিল।
এর আগে ২০১৮ সালের মার্চে প্রকাশ করা একটি অভিযোগপত্রে এই ১৭ জনের মধ্যে ৯ জনের বিরুদ্ধে একই ধরনের হ্যাকিং অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ, জাতিসংঘ এবং হাওয়াই ও ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মাবনা ইনস্টিটিউটের সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, মঙ্গলবারের অভিযোগগুলো থেকে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার গবেষণা এবং মেধাস্বত্ব চুরির কথিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত বড় একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া গেছে।
এদিকে অভিযুক্তদের কয়েকজনের অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাবনা ইনস্টিটিউট অন্তত ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এক লাখের বেশি অধ্যাপকের অ্যাকাউন্ট লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮ হাজার অধ্যাপকের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে সফলভাবে প্রবেশ করা হয়েছিল। এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের অ্যাকাউন্টও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সময়ের আলো/কেএইচ