যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত প্রণালীটি বন্ধই থাকবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা কথাবার্তা চলছে না এবং কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী সচল। সব জলমাইন অপসারণ অথবা বিস্ফোরিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দ সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং সামরিক হুমকি ও অভিযান বন্ধ করা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার তেলের দাম আবারও বেড়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় অর্থনীতিগুলোর ঋণ নেওয়ার ব্যয় কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে সোমবার একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর আগে ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তা ‘আরও জোরালো’।
হরমুজে নৌ চলাচল ব্যাহত
ট্রাম্প উপসাগরীয় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করলেও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে তারা। পরে দেশটি জানায়, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সামুদ্রিক নৌযান লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে দুটিই সাগরে পড়ে যায়। ইরান এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার সময় একটি জাহাজ অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একজন ক্রু আহত হয়েছেন। ওমানের কোস্টগার্ড বাকি ক্রুদের সহায়তা করছে।
মঙ্গলবারের প্রাথমিক নৌ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যা এক অঙ্কেই ছিল।
আলোচনায় আগ্রহী ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইরান এখনও প্রস্তুত। তবে আলোচনাকে আত্মসমর্পণের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
তিনি বলেন, সামরিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের দৃঢ় অবস্থান বদলানো যাবে না। দেশটি নিজের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মিত্রদের রক্ষায় কাজ করবে, তবে যুদ্ধ চায় না।
এদিকে চলমান সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, যার বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননে। সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। মঙ্গলবারও দাম ২০ সেন্ট বেড়ে ৯১ ডলারের কিছু ওপরে স্থির হয়েছে।
এক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতির ওপর আরও চাপ প্রয়োগের জন্য ওয়াশিংটনের হাতে একাধিক পদক্ষেপ রয়েছে। আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলে এসব চাপ আরও বাড়াতে পারেন বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।