তথ্যপ্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষতার যুগে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। আর এই স্মার্টফোনকে সচল ও কার্যকর রাখছে হরেক রকমের মোবাইল অ্যাপস। তবে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো, প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার আড়ালে অনেক অ্যাপই এখন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর গোপনে নজরদারি চালাচ্ছে। ব্যবহারকারীর অজান্তেই সংগ্রহ করা হচ্ছে এমন সব সংবেদনশীল তথ্য, যা সাধারণ নাগরিকের ধারণারও বাইরে। স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের এই গোপন ‘ডিজিটাল থাবা’ বা নজরদারি ঠেকাতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জরুরি কিছু কৌশল মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
গ্রাহকদের সুরক্ষায় নিচে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫টি উপায় তুলে ধরা হলো:
১. অ্যাপের অনুমতি বা ‘পারমিশন’ যাচাই করুন: যেকোনো অ্যাপ ইনস্টল করার সময় সেটি আপনার ফোনের কী কী তথ্য বা ফিচারের অনুমতি চাচ্ছে, তা শুরুতেই দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। উদাহরণস্বরূপ, একটি সাধারণ টর্চলাইট বা ক্যালকুলেটর অ্যাপ যদি আপনার যোগাযোগের তালিকা (কন্টাক্ট লিস্ট), ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের প্রবেশাধিকার চায়, তবে বুঝতে হবে বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক। কারণ, অ্যাপটির মূল কাজের সঙ্গে এসব যন্ত্র ব্যবহারের কোনো যৌক্তিক প্রয়োজন নেই।
২. লোকেশন বা অবস্থানের তথ্য ব্যবহার পর্যালোচনা: প্রয়োজন না থাকলেও অনেক অ্যাপ ব্যবহারকারীর লোকেশন বা অবস্থানের তথ্য ব্যাকগ্রাউন্ডে সবসময় ট্র্যাক করতে চায়। এর সমাধানে ফোনের সেটিংসে প্রবেশ করে দেখে নিতে হবে, কোন অ্যাপগুলো সব সময় লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে রেখেছে। প্রয়োজন না হলে ‘অলওয়েজ অ্যালাউ’ অপশন বন্ধ করে ‘হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ নির্বাচন করতে হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।
মাইক্রোফোন-ক্যামেরার ওপর নজরদারি ও প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড
৩. মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ:
সবচেয়ে বিপজ্জনক নজরদারি হতে পারে আপনার ফোনের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের মাধ্যমে। অনেক অ্যাপ প্রয়োজন ছাড়াই স্মার্টফোনের মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে থাকে, যা পরে আর সেটির প্রয়োজন হয় না। তাই ফোনে থাকা অ্যাপগুলোর মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। যেসব অ্যাপের ক্ষেত্রে এগুলো অপ্রয়োজনীয়, সেগুলোকে দেওয়া অনুমতি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
৪. ‘প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড’ এর ব্যবহার: আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড’ এবং আইফোনে ‘প্রাইভেসি সেটিংস’ নামক চমৎকার সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে অতি সাম্প্রতিক সময়ে কোন অ্যাপ আপনার অবস্থান, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা কন্টাক্ট লিস্ট ব্যবহার করেছে, তা নিখুঁতভাবে দেখা যায়। স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে এই প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
অব্যবহৃত অ্যাপ ফোন থেকে মুছে ফেলুন: অনেক সময় দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলেও বিভিন্ন অ্যাপ ফোনে থেকে যায়। গ্রাহকদের মনে রাখা উচিত, অ্যাপটি ব্যবহার না করলেও সেটি কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে আগের দেওয়া অনুমতি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। তাই ফোনের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং নজরদারির ঝুঁকি কমাতে অপ্রয়োজনীয় ও অব্যবহৃত অ্যাপগুলো ফোন থেকে চিরতরে মুছে (আনস্টল) ফেলাই শ্রেয়।
তথ্যসূত্র: টেকলুসিভ
সময়ের অলো/কহু