খেলাপি ঋণ কমাতে বিচার বিভাগের দরজায়

জাহিদুল ইসলাম

জাতীয়

দুরবস্থা কাটছে না দেশের ব্যাংকিং খাতে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাচ্ছে না কোনোভাবেই। খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল

2026-06-20T01:57:19+00:00
2026-06-20T01:57:19+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
খেলাপি ঋণ কমাতে বিচার বিভাগের দরজায়
জাহিদুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১:৫৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
দুরবস্থা কাটছে না দেশের ব্যাংকিং খাতে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাচ্ছে না কোনোভাবেই। খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে এবার বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা, আদালতের স্থগিতাদেশ এবং অর্থঋণ আদালতে মামলার জট কমাতে উচ্চ আদালতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনি বাধা দূর না হলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা কাক্সিক্ষত ফল দেবে না।

সমন্বয়ের উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের : খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণ আদায়ের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন। উচ্চ আদালতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং অর্থঋণ আদালতের কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের তথ্য সংগ্রহ, খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ এবং ব্যাংকগুলোর ওপর তদারকি জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ এখনও কাক্সিক্ষত ফল দিতে পারেনি। কারণ সমস্যা এখন কেবল ব্যাংক ব্যবস্থাপনার নয়; এটি রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর গভীরে প্রোথিত।

লাগাম টানা যাচ্ছে না খেলাপি ঋণের :
সম্প্রতি প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’-এর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। এক বছর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন

ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতিগুলোর একটি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সমস্যার মূল কারণ শুধু অর্থনৈতিক নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আইনি দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ‘ঋণ না ফেরত দেওয়ার সংস্কৃতি’।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপি। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশ বা ৫ লাখ ২৩ হাজার ৭১২ কোটি টাকা এখন ‘ব্যাড অ্যান্ড লস’ বা ‘মন্দ ও ক্ষতি’ শ্রেণিতে রয়েছে। অর্থাৎ এই অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

একই সময়ে নিট খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, নিট খেলাপি ঋণের এই উচ্চহার নির্দেশ করে যে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

বেসরকারি ব্যাংক সংকটের কেন্দ্রে : খেলাপি ঋণের দৌড়ে সরকারি ব্যাংককে ছাড়িয়ে গেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। একসময় খেলাপি ঋণের জন্য মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে দায়ী করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক চিত্র ভিন্ন। ২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২৬ দশমিক ২২ শতাংশ। বিশেষায়িতও বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৩ দশমিক ৩৩ ও শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট খেলাপি ঋণের ৫১ দশমিক ৮৭ শতাংশ মাত্র পাঁচটি ব্যাংকের হাতে কেন্দ্রীভূত। বাকি ৪৮ দশমিক ১৩ শতাংশ রয়েছে বাকি ৫৬টি ব্যাংকের হাতে। ফলে গোটা ব্যাংকিংব্যবস্থা এখন কিছু বড় ঋণগ্রহীতা ও কিছু দুর্বল ব্যাংকের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। 

কেন বাড়ছে খেলাপি ঋণ : অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, দেশে ঋণখেলাপি হওয়া অনেক ক্ষেত্রেই একটি ‘অপসংস্কৃতিতে’ পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বড় বড় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার প্রবণতা এখন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এটি আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা। তার মতে, অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বছরের পর বছর তা ফেরত না দিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছেন।

দুর্বল ঋণ মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব : ব্যাংক খাতের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া বা বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামেও বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর বলেন, অনেক ঋণের বিপরীতে কার্যকর জামানত নেই। ভুয়া কোম্পানির নামে টাকা বের করা হয়েছে। ফলে এখন আইনগতভাবেও অর্থ উদ্ধারের পথ সংকুচিত।

বছরের পর বছর ধরে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর জন্য পুনঃতফসিলীকরণ বা রিশিডিউলিংয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর সুফল খুব একটা পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যায় পড়া গ্রাহকের জন্য পুনঃতফসিলীকরণ কার্যকর হতে পারে। কিন্তু ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা একই সুবিধা ব্যবহার করে বারবার ঋণ পরিশোধ পিছিয়ে দিয়েছেন। ড. মুজেরির ভাষায়, রিশিডিউলিং একটি টোটকা ওষুধের মতো। এটি সাময়িক স্বস্তি দেয় কিন্তু রোগ সারায় না।

অর্থনীতিবিদদের মতে খেলাপি রোধ করতে না পারার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ও প্রধান হলো আইনি জটিলতা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে আদালতের স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই বিপুল অঙ্কের ঋণখেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করা যাচ্ছে না এবং আদায় প্রক্রিয়াও স্থবির হয়ে আছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, স্টে অর্ডারের কারণে বিপুল পরিমাণ ঋণ আটকে আছে। অনেক গ্রাহক আদালতের আশ্রয় নিয়ে বছরের পর বছর ঋণ আদায় প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছেন। রিপোর্ট অনুসারে, ২০২২ সালে স্থগিতাদেশপ্রাপ্ত মামলার সংখ্যা ছিল ২২৬টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪৫টিতে।

দ্বিতীয় যে কারণে খেলাপি রোধ করা যাচ্ছে না, তা হলো- অর্থঋণ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অর্থঋণ মামলা নিষ্পত্তি হতে অনেক বছর লেগে যায়। ফলে ঋণখেলাপিরা সময়ক্ষেপণের সুযোগ পান। ড. মুজেরি বলেন, লিগ্যাল সিস্টেমের দীর্ঘসূত্রতার কারণে ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা ক্রমশ কমে যায়। দ্রুত বিচার ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।

শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে খেলাপি বেশি : খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিল্প উৎপাদন খাতে মোট খেলাপি ঋণের ৪৮ দশমিক ৫১ শতাংশ কেন্দ্রীভূত। তবে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ও ব্যবসা খাতে। এই খাতে খেলাপি ঋণের হার ৪৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৫০ টাকাই খেলাপি। তবে উপখাতভিত্তিক চিত্র আরও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে দেখা যায়, চামড়া শিল্পে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি ৪৪.১৮ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষিভিত্তিক শিল্পে ৩৯.৮০ শতাংশ, জাহাজ নির্মাণে ৩৬.১৫ শতাংশ এবং তৈরি পোশাক খাতে ৩১.১৫ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি ঋণ। এসব খাত দেশের কর্মসংস্থান, রফতানি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়ছে। 

নিরাপত্তা সঞ্চিতির ভয়াবহ ঘাটতি : প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতে মোট প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে- বেসরকারি ব্যাংকে ১ লাখ ২১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ৭০ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাটতি ব্যাংকগুলোর মূলধন সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

একজন সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, প্রভিশন ঘাটতি মানে হলো সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলার জন্য ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। এটি আমানতকারীদের জন্যও ঝুঁকির সংকেত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের মতে, খেলাপি ঋণ, অবলোপনকৃত ঋণ এবং স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্ট (এসএমএ) একত্রে বিবেচনা করলে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৮ লাখ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে যদি ১১ লাখ কোটি টাকাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, তা হলে বাকি ৭ লাখ কোটি টাকা দিয়ে কি ব্যাংক চালানো সম্ভব।

খেলাপির দায়ে আন্তর্জাতিক ঝুঁকিও বাড়ছে : উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলো বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের ক্রেডিট রেটিং পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে। 

এ বিষয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, ক্রেডিট রেটিং অবনতি হলে বিদেশি ব্যাংকগুলো এলসি কনফারমেশনের জন্য অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করবে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাকেই সেই খরচ বহন করতে হবে।

কোন পথে মিলবে সমাধান? : অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধানে আংশিক পদক্ষেপ নয় বরং কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরির মতে, খেলাপি কমাতে সরকারকে কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। ঋণ আদায়ের মামলার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে উচ্চ আদালতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করতে হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয় ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, সামাজিক বয়কট করে লাভ নেই। যারা বড় ঋণখেলাপি, তারাই অনেক ক্ষেত্রে সমাজ ও অর্থনীতির প্রভাবশালী অংশ। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগই একমাত্র পথ। 

সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশের ব্যাংকিং খাত এমন এক প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সমস্যাগুলোকে আড়াল করার সুযোগ প্রায় শেষ। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। আদালতের স্থগিতাদেশ, দুর্বল আইনি কাঠামো, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন আর কেবল পুনঃতফসিলীকরণ বা প্রশাসনিক নির্দেশনায় কাজ হবে না। প্রয়োজন দ্রুত বিচার, জবাবদিহি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা। অন্যথায় খেলাপি ঋণের এই পাহাড় শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, পুরো অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিণত হতে পারে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এএডি

  বিষয়:   খেলাপি  ঋণ  বিচার  বিভাগ  দরজা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: