সীতাকুণ্ডের পর এবার মীরসরাই উপজেলায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে পাহাড় কাটা ও পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতি স্থাপন। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে, অন্যদিকে পাহাড় ধসে বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি। সম্প্রতি মীরসরাইয়ে মাটি ধসে সায়েম (১৭) নামে কিশোরের মৃত্যুর ঘটনার পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। এ ঘটনায় জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বন বিভাগ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাইয়ের করেরহাট, হিঙ্গুলী, সোনাপাহাড়, খৈয়াছরা, ওয়াহেদপুর ও পূর্ব দুর্গাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের রিজার্ভ ফরেস্টের পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দরিদ্র মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি পাহাড় দখল করে জমি বিক্রি করছে। এই সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে স্থানীয় বাদশা, নুর উদ্দিন ও মহিউদ্দিনের নাম উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে আরও অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (১৭ জুন) রাতে করেরহাট এলাকায় অবৈধ বসতি স্থাপনের জন্য পাহাড় কাটার সময় মাটি ধসে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার পর বন বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। করেরহাট রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী হাসান জানান, মামলাগুলোতে ওই সিন্ডিকেটসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের নির্দেশনায় এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অচিরেই সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
মীরসরাইয়ের এই পরিস্থিতি স্থানীয়দের মনে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এক সময়ের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরও একইভাবে পাহাড় কাটা ও ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। সেখানে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতিগুলো শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্যই নষ্ট করেনি, বরং ভূমিদস্যুদের কারণে পুরো এলাকাটি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সীতাকুণ্ডের সেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি মীরসরাইয়েও ঘটার উপক্রম হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশ সচেতন মহল।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপত্তায় জরুরি ভিত্তিতে উচ্ছেদ ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, শুধু মামলা দিয়ে পাহাড় রক্ষা সম্ভব নয়। জঙ্গল সলিমপুরের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে পাহাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।
সময়ের আলো/মহু