‘পুলিশের বয়ানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ফরেনসিক রিপোর্ট, জবানবন্দিও বলছে ভিন্ন কথা’

রংপুর ব্যুরো

সারাদেশ

রংপুরে আলোচিত ৪ জন খুনের ঘটনায় পুলিশের বয়ান, নিহতদের স্বজনের জবানবন্দি, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও ফরেনসিক কর্মকর্তার বক্তব্য সাংঘর্ষিক বলে দাবি

2026-08-29T19:43:12+00:00
2026-08-29T20:51:11+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
রংপুরে ৪ খুন
‘পুলিশের বয়ানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ফরেনসিক রিপোর্ট, জবানবন্দিও বলছে ভিন্ন কথা’
বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম  আপডেট: ২৯.০৮.২০২৬ ৮:৫১ পিএম
রংপুরে হত্যার শিকার গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরে আলোচিত ৪ জন খুনের ঘটনায় পুলিশের বয়ান, নিহতদের স্বজনের জবানবন্দি, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও ফরেনসিক কর্মকর্তার বক্তব্য সাংঘর্ষিক বলে দাবি করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান করেছেন নাগরিকরা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন এই দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের সকলকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনা প্রমাণ করে রংপুরসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক। এ ঘটনায় দুইজনকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার করে পুলিশ গণমাধ্যমে পুরো হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যে বক্তব্য উপস্থাপন করে সেটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন, সংশয় এবং আস্থাহীনতার জন্ম হয়।


হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশের বয়ান, নিহতদের স্বজনের জবানবন্দি, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তার বক্তব্য সাংঘর্ষিক। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ দেশে সংঘটিত প্রতিটি হত্যার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ চার খুনের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হওয়া জরুরি। এজন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। যাতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বিজয় প্রসাদ তপু, বীথি দাস নন্দিনী, মাহফুজ হোসেন, মসিউর রহমান, সবুজ রায়, মেহেদী হাসান তরুণ।


রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি আগে রংপুর শহরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। জমিটি ২০১০ সালে কেনা হলেও অনেক পরে সেখানে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

সেই বাড়ির দোতলায় প্রায় তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেনে গণপতি চক্রবর্তী। তবে নিচতলার কাজ এখনো শেষ হয়নি। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগীও দেখতেন তিনি।

২২ অগাস্ট রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


চারজনকে হত্যার এ ঘটনায় রোববার নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। রাতেই তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।

সময়ের আলো/আতা
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: