বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের সীতাকুণ্ড অংশে সিগন্যাল সরঞ্জাম চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সীতাকুণ্ডের আওতাধীন ফৌজদারহাট, ভাটিয়ারী ও কুমিরা সেকশনে চুরি আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছে ট্রেন চলাচল। এসব চুরির প্রতিটি ঘটনার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং ঘটনাগুলোর তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের স্বয়ংক্রিয় সংকেত ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় চালকদের বাধ্য হয়ে ম্যানুয়ালি ট্রেন চালাতে হচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুতির ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে ট্রেন ধীরগতিতে চলায় সময়সূচি ভেঙে পড়ে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছাচ্ছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই সীতাকুণ্ডসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিভিন্ন স্থানে চুরির ঘটনা ঘটে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে সীতাকুণ্ড অংশে এর ভয়াবহতা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ফৌজদারহাট, ভাটিয়ারী এবং কুমিরা সেকশনের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয় সংকেত ব্যবস্থার অত্যন্ত দামি ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম গায়েব হয়ে যাচ্ছে।
চোরচক্র মূলত চড়া বাজারমূল্যের কারণে তামার ক্যাবল, পয়েন্ট মোটর, সিগন্যাল পোস্টের লোহার সিঁড়ি (লেডার), এলইডি লাইট ও ট্র্যাক সার্কিট সরঞ্জামের মতো মূল্যবান সামগ্রী কেটে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি চুরির পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্থানীয় রেলওয়ে থানায় একাধিক জিডি দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে রেলওয়ে পুলিশ এসব জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে এবং চোরচক্র শনাক্তে কাজ করছে। তবে মূলত নিরাপত্তার ঘাটতিকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।
পাহাড়তলী লোকোশেড ইনচার্জ আবু জাফর বলেন, এসব চুরির প্রধান কারণ হলো নিরাপত্তার অভাব। মাত্র তিনজন আরএনবি (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। রেলের সম্পদ পাহারার দায়িত্ব আরএনবির। চুরির বিষয়ে আমরা মামলা করি। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি দেওয়া হয়।
রেল কর্মকর্তারা জানান, ফৌজদারহাট-ভাটিয়ারী-কুমিরা সেকশনের বাইরে চট্টগ্রাম জংশন এলাকা ও আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইনেও চোরচক্রের তৎপরতা চলছে। এ অবস্থা নিরসনে আরএনবি সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, জিপিআরএস ও সিসিটিভি নজরদারি এবং পুলিশি টহল জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সময়ের আলো/এনএন/আতা