দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আবারও লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য জরুরি সেবা।
গ্রাহকরা জানিয়েছেন, আগের মাসের বিদ্যুৎ বিলের অনিয়ম ও লোডশেডিং নিয়ে প্রতিবাদের পর কোনো পরিবর্তন তো আসেইনি, উল্টো লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে ক্ষোভ-হতাশায় প্রকাশ করেছেন তারা।
এই অযৌক্তিক বিদ্যুৎ বিলের নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত এবং স্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, গত মাসে বিদ্যুৎ বিলে নানা অসংগতি, ভুল তথ্য ও বকেয়ার জালিয়াতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। এরপর দু-একদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা সহনীয় হলেও বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়েও জটিল আকার ধারণ করেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে পুরো ঘোড়াঘাট। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম অতিষ্ঠ জনজীবন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো প্রকার স্থায়ী সমাধান না করে গ্রাহকদের ওপর একের পর এক অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপানো হচ্ছে। দিনের বেশিরভাগ সময় যেখানে আলোই জ্বলে না, সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ কীভাবে দ্বিগুণ বা তিনগুণ হয়— সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।
সুমন নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, গত মাসে বিল নিয়ে সমস্যা হওয়ার পর ভেবেছিলাম এবার হয়ত বিলে কিছু সংশোধন আসবে বা বিদ্যুৎ পরিস্থিতি শোধরাবে। কিন্তু এ মাসে লোডশেডিং আরও বেড়েছে, সেই সঙ্গে আগের মাসের মতোই অতিরিক্ত বিলের কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একই অসন্তোষ প্রকাশ করেন আশরাফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম নামে একাধিক ভুক্তভোগী। আশরাফুল বলেন, আমার বিল আসে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা যেটা গত মাসে দ্বিগুণ হয়ে ৩ হাজার টাকা এসেছিল এ মাসেও ৩ হাজার ৩৪ টাকা। এটা কেমন অবিচার বিদ্যুৎ তো থাকেই না।
পৌরসভা এলাকার মান্নান সরকার বলেন, বিদ্যুতের যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে আমরা যেন বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি।
উপজেলা সদর ওসমানপুরসহ রানীগঞ্জ বন্দর এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য সব লাটে ওঠার জোগাড়। মোমবাতি আর জেনারেটর চালিয়ে কোনোমতে দোকান চালাতে হচ্ছে। কিন্তু মাস শেষে পল্লী বিদ্যুতের বিল ঠিকই দ্বিগুণ আসছে। আমরা চরম হয়রানির মধ্যে পড়েছি।
দীর্ঘদিনের এই ধারাবাহিক ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সেবা। তীব্র গরমে বাসা-বাড়িতে শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের দিন-রাত কাটছে চরম যন্ত্রণায়। নিয়মিত পড়াশোনা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকেও সরকারি এই সেবা সংস্থার কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না পাওয়ায় গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। অবিলম্বে এই অযৌক্তিক বিদ্যুৎ বিলের নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত এবং স্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা চান তারা।
সময়ের আলো/এনএন/জোই