ইজিবাইক শ্রমিকদের হামলা ও মারধরের প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে চুয়াডাঙ্গার সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা সব রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা শহরের দৌলতদিয়াড় এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি ইজিবাইক শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ইজিবাইক চালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলোকদিয়া এলাকায় জড়ো হন। পরে তারা চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে চালক ও সুপারভাইজারকে মারধর, লাঞ্ছিত এবং বাসটিতে হামলা চালান। এ সময় চালক ও সুপারভাইজারকে জিম্মি করে রাখার খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এই ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলেও প্রশাসনের আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে শ্রমিকদের অসন্তোষ ও ক্ষোভ অব্যাহত থাকায় শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের স্পষ্ট ঘোষণা, শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস চলাচল করবে না।
এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিএম তারিক উজ জামানের নেতৃত্বে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে একটি সমঝোতা বৈঠক চলছে। আলোচনা সফল হলেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়ায় বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই