আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা সবুজগঞ্জ বাজারে মাছ ও সবজি বিক্রির জন্য সরকারি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সেডগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত সেডে না বসে রাস্তার পাশে বসে ব্যবসা পরিচালনা করায় তীব্র জটলা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে আরআরএমআইপি প্রকল্পের আওতায় সবুজগঞ্জ বাজারে সবজি বিক্রির জন্য একটি সেড নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে হিলিপ প্রকল্পের আওতায় মাছ বিক্রির জন্য পৃথক আরেকটি সেড নির্মিত হয়। শুরুর দিকে ব্যবসায়ীরা সেডগুলোতে বসলেও বর্তমানে সেখানে কেউ নিয়মিত ব্যবসা করছেন না। একই প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে পশ্চিমবাগ এলাকায় নির্মিত মাছ ও সবজির দুটি সেডের অবস্থাও একই। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই সেডগুলোর ভেতর ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারের অভ্যন্তরে সেডগুলো অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ক্রেতারা যায় না। তাই ব্যবসায়িক সুবিধার স্বার্থেই তারা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে বসে কাঁচামাল বিক্রি করছেন।
তবে রাস্তার ওপর পসরা সাজিয়ে বসার কারণে নিয়মিত ক্রেতাদের দীর্ঘ জটলা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে পথচারী ও ছোট যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং মাঝেমধ্যে সৃষ্টি হওয়া যানজট ছড়িয়ে পড়ছে মূল সড়কেও। এতে সাধারণ মানুষ ও চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শিবপাশা সবুজগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. সাদেকুল আমীন চৌধুরী জানান, ব্যবসায়ীদের সেডে ফিরিয়ে আনার নানামুখী চেষ্টা চলছে। বর্তমানে সবজি সেডের তুলনায় ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সবার জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। তবে ভাসমান মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা খুব দ্রুত নির্দিষ্ট সেডে ফিরে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সরকারি তহবিলের অর্থে নির্মিত এসব অবকাঠামো অব্যবহৃত থাকায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। রাস্তা দখলমুক্ত করে ব্যবসায়ীদের দ্রুত নির্ধারিত সেডে পুনর্বাসন করা হলে বাজারের যানজট ও জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।
সময়ের আলো/জোই