দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার আসামি আনোয়ার হোসেনের (৩৮) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ওয়েব বেজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক শাহ মিনহাজ উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। স্থানীয় লোকজনের জবানবন্দি, ভিডিও ফুটেজ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, হামলাকারীদের কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে দেয়। এর জেরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও সাড়ে ৩০০ থেকে সাড়ে ৪০০ লোক সেখানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো কার্যালয়ের গেটের শাটার ও কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ জন ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন। আগামী ৯ জুলাই মামলাটির পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে মিছিল করে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে হামলার চেষ্টা চালায়। পুলিশ বাধা দিলে তারা সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী স্লোগান দিতে থাকে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আরও লোক জড়ো করে।
রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন প্রথম আলো কার্যালয়ের ফটকের কাচ ও শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।
হামলাকারীরা ভবনের সামনের কাচ ভেঙে আসবাব, মালপত্র ও নথিপত্র নিচে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে দেড় শতাধিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, লকারে রাখা টাকা এবং প্রথমা প্রকাশনের বইপত্র লুট করে নিয়ে যায়। তারা সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং ফায়ার সার্ভিসকেও আগুন নেভানোর কাজে বাধা দেয়।
মামলায় শুধু লুট হওয়া সম্পদের মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং সব মিলিয়ে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩২ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
কার্যালয়ে এই নৃশংস হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রথম আলোর হেড অব সিকিউরিটি মেজর (অব.) মো. সাজ্জাদুল কবির বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় নাশকতা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এই মামলা দায়ের করেছিলেন।
সময়ের আলো/জেডি