চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর একটি বিশেষ সেশনে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন এ শিপটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনের প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এ বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব, উন্নত প্রযুক্তির অবাধ স্থানান্তর, সহজ অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য ক্ষয়ক্ষতি তহবিল ‘লস অ্যান্ড ডেমেজ ফান্ড’কে শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নে রূপ দিতে হবে। একই সাথে ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (জিসিএফ)-কে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এর অর্থায়ন প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য করার দাবি জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কার্বন নিঃসরণ প্রশমনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানোও সমানভাবে অপরিহার্য।
এর আগে সম্মেলনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। পরে তাদের মধ্যে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত চীনের দালিয়ান শহরে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই বিশেষ ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্প কাঠামোর আধুনিক পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সংকটগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও এর বিস্তৃত অর্থনৈতিক সুফলের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, তা এবারের সম্মেলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়। এবারের উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১,৭০০-এর অধিক সরকারি প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করছেন।
সময়ের আলো/কহু