মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন ২৩তম রাষ্ট্রপতি!

রফিক রাফি

জাতীয়

নির্বাচন কমিশন থেকে রোববার রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের পক্ষে একটি মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের

2026-08-10T00:47:24+00:00
2026-08-10T00:47:57+00:00
 
  সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন ২৩তম রাষ্ট্রপতি!
রফিক রাফি
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৭ এএম  আপডেট: ১০.০৮.২০২৬ ১২:৪৭ এএম
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীর। ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন কমিশন থেকে রোববার রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের পক্ষে একটি মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণি। আরেকটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। এরই মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীরই হচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। 

রোববার সচিবালয়ে একজন মন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রীও সময়ের আলোকে এমনটাই জানান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার খবর জোরালো আলোচনায় রূপ নেয়।

মির্জা ফখরুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সূত্র সময়ের আলোকে জানিয়েছেন, বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মহল মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। এটি থেকে মোটামুটি নিশ্চিত যে তিনিই হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সময়ের আলোকে জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ব্যাপারটি আমার নলেজে নেই।

অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, মির্জা ফখরুল বা মেজর (অব.) হাফিজ বা অন্য কে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন তা এখনও দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনায় অনেকের নাম রয়েছে। কে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বিএনপি সূত্রে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সবদিক বিবেচনায় ভারমুক্ত করে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদই উত্তম হবেন বলেও মন্তব্য অনেকের।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা সময়ের আলোকে বলেন, কয়েক দিন আগেও দলের একাধিক সিনিয়র নেতার নাম রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আলোচনায় ছিল। তবে এখন মির্জা ফখরুল বা মেজর হাফিজ দেশের রাষ্ট্রপতি হবেন, এমন সম্ভাবনা প্রবল। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার দেওয়া হয়েছে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। তিনিই এ বিষয়টি নির্ধারণ করবেন। ইতিমধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে বলেও অনেকে বলছেন। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা না আসবে তার আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

বিএনপির একাধিক নেতার ভাষ্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি দলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মির্জা ফখরুল ছয়বার কারাবরণ করেন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দি ও তারেক রহমান বিদেশে থাকার সময়ে তিনি বিএনপির সবচেয়ে দৃশ্যমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তিনি যোগ্য।


অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সামরিক ও রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির রাজনীতিতে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকার কারণে দলটির ভেতরে ও বাইরে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও অবস্থানের জন্যও তিনি আলোচনায় রয়েছেন। সামরিক বাহিনীতে থাকার কারণে মেজর হাফিজ রাষ্ট্রপতি হতে পারেন বলে মন্তব্য কোনো কোনো নেতার।

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য গমনের মধ্য দিয়ে এক দশক পর প্রথমবারের মতো বিএনপির মহাসচিবের পদ ফাঁকা হতে যাচ্ছে। মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে, অন্য কাউকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী করতে হবে। আবার দলের মহাসচিবের দায়িত্বও দিতে হবে গ্রহণযোগ্য কোনো নেতাকে। এ ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হবে। দলের দ্বিতীয় শীর্ষ এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার কাঁধেই আসতে পারে বলে জানিয়েছে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দলের কাউন্সিলের আগে কোনো সিনিয়র নেতাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কাউন্সিলে ভারমুক্ত হবেন তিনি।

সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সময়ের আলোকে জানিয়েছেন, চলতি বছরই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান সময়ের আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও আমরা জানি না। তবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম যে আলোচনা হচ্ছে, তার নাম আসতেই পারে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সময়ের আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে আপনাদের জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সংসদ অধিবেশন কক্ষে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে


  বিষয়:   মির্জা ফখরুল  রাষ্ট্রপতি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: