ঢাকা-ওয়াশিংটন যেকোনো সময় সমঝোতা স্বাক্ষর

এমএকে জিলানী

জাতীয়

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র উভয়পক্ষ জ্বালানি নিরাপত্তাসহ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত তাৎপর্য স্বীকার করে এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা আরও গভীর করতে

2026-09-25T07:29:29+00:00
2026-09-25T07:29:29+00:00
 
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
ঢাকা-ওয়াশিংটন যেকোনো সময় সমঝোতা স্বাক্ষর
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৯ এএম 
প্রতীকী ছবি
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র উভয়পক্ষ জ্বালানি নিরাপত্তাসহ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত তাৎপর্য স্বীকার করে এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে। দুই পক্ষই স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর)সহ পারমাণবিক শক্তির সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকা-ওয়াশিংটন সিভিল নিউক্লিয়ার সহযোগিতা ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা যেকোনো সময় সই হতে পারে। প্রস্তাবিত স্মারকে পারমাণবিক শক্তি, উন্নত চুল্লি প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, প্রবিধান, গবেষণা এবং বিদ্যুৎ-বহির্ভূত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ মূলত শান্তিপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সিভিল নিউক্লিয়ার সহযোগিতা ইস্যুতে সমঝোতা করতে চায়। এই ইস্যুতে ১৯৮১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সংক্রান্ত একটি সহযোগিতা চুক্তি সই করা হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে নোট বিনিময়ের মাধ্যমে সেই চুক্তি নবায়ন হয়। সর্বশেষ ওই চুক্তির মেয়াদ গত ২০১২ সালে শেষ হয়, এরপর এটি আর নবায়ন হয়নি। এবার ওই একই বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত। আবার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল ও দক্ষিণ সাউথেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ রাশিয়ার মাধ্যমে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সময়ে রাশিয়ার পাশাপাশি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রও সিভিল নিউক্লিয়ার সহযোগিতা ইস্যুতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে।

ঢাকা-ওয়াশিংটন সিভিল নিউক্লিয়ার সহযোগিতা সমাঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত, যা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। দুই পক্ষের মধ্যে যেকোনো সময় এই সহযোগিতা স্মারক সই হতে পারে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়। স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর)সহ পারমাণবিক শক্তির সম্প্রসারণের বিষয়ে কাজ করতে গেলে তখন এই সমঝোতা স্মারক কাজ করবে না। তখন যুক্তরাষ্ট্রের এটমিক এনার্জি অ্যাক্টের সেকশন ১২৩ এর অধীনে চুক্তি করতে হবে। কেননা বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের জ্বালানি জ্ঞান হস্তান্তর সংক্রান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইন (সেকশন ১২৩-এর অধীনে চুক্তি) এই ধরনের বিষয় হস্তান্তর-সংক্রান্ত ইস্যুতে নির্দিষ্ট আইনের অধীনে চুক্তি না হলে বাধা দেয়।

এরই মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে গত ৯ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সমঝোতার খসড়াটি নিয়ে আলোচনা করেন। ওই বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা ছিলেন। সমঝোতার খসড়ায় বলা হয়েছে, উভয় সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাসহ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত তাৎপর্য স্বীকার করে এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা আরও গভীর করতে চায়। উভয় পক্ষ স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর)সহ পারমাণবিক শক্তির সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং যেকোনো সম্প্রসারণ অবশ্যই দায়িত্বশীলভাবে এবং নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ মান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। এটি দুই দেশের নিজ নিজ নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের পারমাণবিক জ্বালানির চাহিদা মেটাতে যৌথভাবে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার অভিপ্রায়ও প্রকাশ করে। ওয়াশিংটন ও ঢাকা বিদ্যমান এবং ভবিষ্যৎ মার্কিন বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি, জ্বালানি, সরঞ্জাম ও পরিষেবা খাতে, যেখানে উপযুক্ত, সেখানে সহযোগিতা অন্বেষণ করতে আগ্রহী।

খসড়াটিতে আরও বলা হয়েছে, উভয় দেশ বাংলাদেশের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ উন্নয়নে, যার মধ্যে উন্নত রিঅ্যাক্টর ও এসএমআরের মতো নতুন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সমর্থন করতে আগ্রহী। সব বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকে অবশ্যই পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং অপসারণের সর্বোচ্চ মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের পর কার্যকর হবে এবং পাঁচ বছরের জন্য বৈধ থাকবে। এরপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বর্ধিত হবে, যদি না কোনো পক্ষ লিখিতভাবে অন্য পক্ষকে চুক্তিটি বাতিল করার অভিপ্রায় জানায়।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিভাগের পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনন্দ কুমার দাস দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, সিভিল নিউক্লিয়ার বিষয়টি এই মুহূর্তে আমাদের দেশে ক্যানসারসহ একাধিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে এবং খাবার মসলার তেজস্ক্রিয়তা মুক্ত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ইস্যুতে উন্নত দেশগুলো স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) নিয়ে কাজ করছে, যা সহজে ও কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। উন্নত দেশগুলো এখনও এই বিষয়ে গবেষণা করছে। এ ক্ষেত্রে চীন এগিয়ে আছে, তারা এসএমআর তৈরি করেছে কিন্তু আরও গবেষণা চালাচ্ছে। এসএমআর প্রযুক্তি দিয়ে আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় কিন্তু কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ বছর সময় বা তারও বেশি লাগতে পারে। কারণ এই প্রযুক্তি এখনও গবেষণা পর্যায়েই আছে। যা এখনও বাজারজাত হয়নি। এসএমআর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও গবেষণা করছে।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   ঢাকা  ওয়াশিংটন  সমঝোতা স্বাক্ষর  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: