১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা অচিরেই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট নিয়ে

2026-08-10T00:40:52+00:00
2026-08-10T00:40:52+00:00
 
  সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী
১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ এএম 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সময়ের আলো
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা অচিরেই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে, আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না। বিভ্রান্তিকর কথা বলে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়ায় পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সমাবেশে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে হাজার হাজার গ্রামবাসী উপস্থিতি ছিলেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর ছিল সমাবেশ অঙ্গন। বাঁশখালীর সমাবেশে বক্তব্য প্রদান শেষে তিনি হেলিকপ্টারে যান ফটিকছড়িতে। পরে তিনি হাটহাজারীতে পৌঁছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎব্যবস্থা যেটি অপরিকল্পিতভাবে গুটিকয়েক মানুষকে সুবিধা দিয়েছিল। সেটি যদি জনগণের স্বার্থে পরিকল্পনা করতে হয় স্বাভাবিকভাবে কিছু সময়ের প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজে হাত দিয়েছি।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী ১০ বছরে আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে, বিদ্যুৎব্যবস্থা কী হবে সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব। আমরা পরিকল্পনা নিয়ে সেই কাজ শুরু করব। যাতে স্কুল-কলেজ হোক, হাসপাতাল হোক, এরপর পৃষ্ঠা ৫ কলাম ৬

১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে

 মিল-কারখানা হোক, বাসাবাড়ি হোক, মানুষ ঠিকভাবে যেন বিদ্যুৎ পেতে পারে। গাড়ি, মোটরসাইকেল সবকিছুতে যাতে মানুষ গ্যাস ঠিকভাবে পেতে পারে, সেই পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করব।

এর আগে সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর বাহারছড়ায় যান। পরে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে ওই অঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নতুন টিনের ঘরের চাবি তুলে দেন।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা খেয়াল করেছি কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ এই ব্যাপারে (জ্বালানি) বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না। জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। কারণ পঞ্চাশের উপরে এই দেশের স্বাধীনতা হয়ে গেছে। এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়। দেশ গঠনের জন্য কাজ করার সময়। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য- জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।

বিএনপি সরকারের পরিকল্পনায় সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় বলি আমাদের অর্থাৎ বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা প্রত্যেকটি জনগণের স্বার্থে যত কর্মসূচি নিয়েছি, সব আল্লাহর রহমতে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়দিন আগে বন্যা হলো অতিবৃষ্টির কারণে। এই বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ১০০ বাড়ির চাবি তুলে দিতে পারছি। কিছু দুস্থ মহিলাকে আমরা চাল দিয়ে সহযোগিতা করেছি। বর্তমান সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। এ বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এ দেশের মানুষের পাশে থাকা, সুখে-দুঃখে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ জন্যই নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তা হলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেব। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল এ দেশের মায়েদের সহযোগিতার জন্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র দেশে এ বছর প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এ উপজেলার মধ্যে ১০-১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব। আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে। 
বাঁশখালীর লবণচাষিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনা করে আমরা লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে ‍মূল্য পেলে লবণচাষি ভাইদের স্বাবলম্বিতা, অর্থনৈতিকভাবে তারা সচ্ছল হবে আস্তে আস্তে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব। যার ফলে লবণচাষি ভাইদের আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ (গতকাল) আমি মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম, সেখানে সব দেখে আসলাম। মিরসরাই থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চল হেলিকপ্টারে আমি দেখেছি। কেন দেখেছি? কারণ এই যে আমাদের সামনে বিশাল সমুদ্র, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক হচ্ছে এই বাংলাদেশের জনগণ। এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবনব্যবস্থা উন্নত করা যায়, কীভাবে আমরা মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরি স্থাপন করার মাধ্যমে এদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারব- সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায় তার জন্য আজ মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম।
 
খালেদা জিয়ার শিশুভক্ত : প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতে যখন হাজারো মানুষের ভিড় তখন সেই জনসমুদ্রের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়ে আলিফা আক্তার নামের একটি ছোট্ট শিশু। জনতার মাথার ওপর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি সুসজ্জিত পালকি। আর সেই পালকিতে বসে ছিল ছোট্ট এক শিশু। চোখে কালো রোদ চশমা, পরনে সাদা-লাল শাড়ি। বড়দের মতো সাজে সেজে জনসমুদ্রে হাজির হওয়া শিশুটিকে দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়ান। কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছিলেন, কেউ ধারণ করছিলেন ভিডিও। মুহূর্তেই পালকিতে বসা শিশুটি হয়ে ওঠে আশপাশের মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

মাতারবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সময় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার প্রথমবারের মতো গেলেন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং করেন। এ সময় প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্লান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তার সামনে তুলে ধরা হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি বিস্তারিত তথ্য নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ও দিকনির্দেশনা দেন।


পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী কোল (কয়লা) জেটি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়লা পরিবহন ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে এর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষ করেন। এরপর তিনি হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

হেফাজত আমিরসহ শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার বিকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তিনি ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় পৌঁছেন। এরপর তিনি মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী দীঘির মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে সেখান থেকে বাবুনগর মাদরাসার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

হেফাজতের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, মতবিনিময়ের ৯ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ভারতের মাওলানা সাদের বাংলাদেশে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়াসহ নানা দাবি। মতবিনিময় সভায় হেফাজতের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে এসব দাবি জানানো হয়।

হেফাজতের মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমানের সই করা লিখিত দাবিতে প্রথমেই মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাসের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞে জড়িত, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

অন্য দাবির মধ্যে আছে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করা, ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদরাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের ডিগ্রি শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা।

এ ছাড়া শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এ দেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করার দাবি জানানো হয়। 

দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী : ফটিকছড়িতে বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সেখানে তিনি বলেন, আজকে মূল যে কারণে আমার এখানে আসা, যেটা সংসদ সদস্যও বলেছেন, প্রথমত আমি যে ওয়াদাটা করেছিলাম হুজুরের কাছে, সেই ওয়াদাটা আমি আজকে (গতকাল) রক্ষা করলাম, হুজুরকে সালাম দিলাম এবং যাওয়ার সময় আমি দোয়া নিয়ে যেতে চাই। যাতে যে কথাগুলো আমরা দেশের মানুষকে বলেছি, যে প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা দেশের মানুষকে দিয়েছি তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, আল্লাহ যাতে আমাদের রহমত করেন, সেই প্রতিশ্রুতি যাতে আমরা রক্ষা করতে পারি।

আহমদ শফীর কবর জিয়ারত : চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বিকাল পৌনে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসায় (হাটহাজারী মাদরাসা) পৌঁছান। 

যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে তাদের রুখে দাঁড়াতে হবে : রোববার সন্ধ্যায় হাটহাজারী উপজেলার হাচহাজারী সরকারি কলেজ মাঠের জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে ৩১ দফার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। জনগণ নির্বাচনে ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছেন। জনগণের দফা বাস্তবায়ন করার জন্য সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে বিএনপি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাবে। আসুন আমরা একটা শপথ গ্রহণ করি যে, দেশের উন্নয়নের পথে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে তাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করে বলেন, আছেন আপনারা আমার সঙ্গে? এ সময় সমাবেশে উপস্থিত জনতা উচ্চস্বরে হাত নেড়ে সমর্থন জানান। 

রাতে রেডিসন ব্লুতে প্রধানমন্ত্রী : রোববার রাত ৯টার আগে নগরীর পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে পৌঁছেন। সেখানে তিনি নগরীর উত্তর ও দক্ষিণ জেলার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়ে মিলিত হন। এটি মূলত দলের সাংগঠনিক সভা। এতে নগর জেলা ওয়ার্ড কমিটির অন্তত ৬০০ আমন্ত্রিত দায়িত্বশীল দলীয় নেতার পাশাপাশি বিএনপির সংসদ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পৌঁছার অন্তত চার ঘণ্টা আগে থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা রেডিসন ব্লুর সামনে অবস্থান করেন। নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান দেন। 

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী প্রতিনিধি)

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে


  বিষয়:   জ্বালানি  পরিকল্পনা  সংসদ  প্রধানমন্ত্রী  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: