চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হাজীরখীল গ্রামের ১৩ বছরের কিশোর সাগর ত্রিপুরার কয়েক দিন ধরে শরীর ফুলে যাচ্ছিল। প্রস্রাবের পরিমাণও কমে আসে। উদ্বিগ্ন পরিবার তাকে নিয়ে যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, সাগর আক্রান্ত হয়েছে জটিল কিডনি রোগ এজিএন রোগে আক্রান্ত।
ধারণা করা হয়, এ ধরনের রোগের চিকিৎসার জন্য জেলা বা বিভাগীয় শহরের বড় হাসপাতালে যেতে হয়। তবে সাগরের ক্ষেত্রে সেই ধারণা বদলে দিয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রায় ১০ দিনের চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে সে।
হাসপাতাল সূত্রে জানায়, গত ১৪ জুন সাগরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজীরখীল গ্রামের মানিক ত্রিপুরার ছেলে। প্রথমে বহির্বিভাগে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু), ডা. জয়নাল আবেদীন মুহুরীর কাছে নেওয়া হলে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে তাকে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানান, এজিএন শিশুদের জন্য একটি জটিল কিডনি রোগ। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।
সাগরের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদীন মুহুরী বলেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং চিকিৎসক-নার্সদের সমন্বিত পরিচর্যায় ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। একপর্যায়ে সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে এবং তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
সাগর ত্রিপুরার বাবা মানিক ত্রিপুরা বলেন, আমার ছেলের হঠাৎ শরীর ফুলে যায় এবং প্রস্রাব কমে যায়। আমরা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। এখানে চিকিৎসকেরা দ্রুত রোগ শনাক্ত করে ভর্তি করান এবং নিয়মিত চিকিৎসা দেন। আল্লাহর রহমতে ও চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় আমার ছেলে এখন পুরোপুরি সুস্থ।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, সাগর ত্রিপুরার আগে এজিএন ও নেফ্রোটিক সিনড্রোমে আক্রান্ত শতাধিক শিশু এখানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা এবং মানসম্মত সেবার ফলেই এ ধরনের রোগীদের সফল চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সময়ের আলো/জোই