স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে কষ্ট করে একটু একটু করে জমিয়েছিলেন টাকা। কাঠের আলমারিতে যত্ন করে তুলে রাখা নগদ দুই লাখ টাকা গেছে ইঁদুর ও উইপোকার পেটে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এক প্রান্তিক কৃষক এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন ভাটিয়ার বাড়িতে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে আলমারি খুলে টাকাগুলো নষ্ট হওয়ার দৃশ্য দেখতে পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েন ওই কৃষক ও তার পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এর আগে তিনি ঢাকায় রিকশা চালিয়ে কিছু অর্থ উপার্জন করেছিলেন। তিন মেয়ে ও স্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার মতো জরুরি প্রয়োজনে তিনি একটু একটু করে নগদ দুই লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। ব্যাংকে হিসাব না খুলে সেই টাকাগুলো একটি পুরোনো কাঠের আলমারিতে সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে কোনো প্রয়োজনে আলমারি খুলতেই তার মাথায় হাত পড়ে। তিনি দেখেন, ভেতরে রাখা নোটগুলো ইঁদুর ও উইপোকা কেটে সম্পূর্ণ কুটি কুটি করে নষ্ট করে ফেলেছে। টাকাগুলোর এই কঙ্কালসার অবস্থা দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
দহবন্দ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ছোবেদ আলী শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তোফাজ্জল ভাই অত্যন্ত কষ্ট করে ছেলে-মেয়ের বিয়ে ও সংসারের জরুরি প্রয়োজনের জন্য এই টাকাগুলো জমিয়েছিলেন। কিন্তু এভাবে ইঁদুর ও উইপোকা সব টাকা খেয়ে ফেলায় তিনি এখন দিশাহারা।
সর্বস্ব হারিয়ে কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘তিন মেয়ে ও স্ত্রীর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এই টাকা জমাচ্ছিলাম। টাকাগুলো ছিল জমি বন্ধকের। কিন্তু কে জানত এমন দুর্ভাগ্য আমার কপালে আছে। এই অর্থ শুধু কাগজের নোট নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার অনেক দিনের রক্ত-ঘাম আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, নষ্ট হয়ে যাওয়া এই টাকাগুলোর বিনিময়ে যেন আমাকে নতুন টাকা দেওয়া হয়; তা না হলে আমার পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরার দশা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা খলিল জানান, বাড়িতে নগদ টাকা এভাবে অরক্ষিত বা পুরোনো কাঠের আলমারিতে রাখার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতগুলো টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার মানুষ এখন সরকারের কাছে এই অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জেডি