চালকলের বর্জ্য গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে পরিবেশগত নিয়মনীতি না মেনে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই অটোমেটিক চালকল পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব মিলের

2026-09-30T21:23:37+00:00
2026-09-30T21:23:37+00:00
 
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
চালকলের বর্জ্য গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে পরিবেশগত নিয়মনীতি না মেনে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই অটোমেটিক চালকল পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্য পরিশোধন না করেই খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে দূষিত হচ্ছে পানির উৎস, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আবাদি জমি ও জলজ পরিবেশ।

স্থানীয়রা জানান, আদমদীঘি উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য ও অপরিশোধিত তরল পদার্থের কারণে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও জলজ পরিবেশ। বিশেষ করে সান্তাহার এলাকায় কয়েকটি অটোরাইস মিলের বর্জ্য সরাসরি খাল ও ফসলি জমিতে পড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বুশরা অটো রাইস মিল, সুন্দরী অটো রাইস মিল, ইছামতী, ফুলজান, সালমান, এমবি, বৈশাখীসহ প্রায় ১৪টি অটোরাইস মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে নির্গত দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। অথচ বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য ইটিপি স্থাপন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানে তা দৃশ্যমান নয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুশরা অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি রেলের জায়গা দিয়ে ফসলি জমির পাশ দিয়ে ইরামতি খালে গিয়ে পড়ছে। এমবি এগ্রো ফুডস ও সালমান অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি ড্রেনের মাধ্যমে ফসলি জমি পেরিয়ে খাড়িতে গিয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্যান্য চালকলেও একইভাবে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলের বর্জ্য পানি ও খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করে সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার তথ্যে দেখা যায়, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ থেকে ৬ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম।

পানির পিএইচের স্বাভাবিক মাত্রা ৭ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ৫ হওয়ার কথা। পরীক্ষায় মিলের পানিতে পিএইচ পাওয়া গেছে ৭ দশমিক ৩ এবং খালের পানিতে ৬ দশমিক ৮। অ্যামোনিয়ার স্বাভাবিক মাত্রা শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও মিলের পানিতে এর পরিমাণ ১০ মিলিগ্রামের বেশি এবং খালের পানিতে ১২ মিলিগ্রামের বেশি পাওয়া গেছে। এছাড়া অ্যালকালিনিটির স্বাভাবিক মাত্রা ২০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে শূন্য দশমিক ৩ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে শূন্য।

স্থানীয় কৃষক লতিফুর রহমান বলেন, ‘খাড়ির দুর্গন্ধে এখন আশপাশে যাওয়া যায় না। জমিতে ফলন কমেছে, পচা পানিতে মাছও বাঁচে না। একসময় খালের মাছেই পরিবারের আমিষের চাহিদা মিটত। এখন মাছ কিনে খাওয়াও কঠিন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বুশরা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী হাফেজ বেলাল হোসেন বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের পেছনের একটি পুকুরে বর্জ্য পানি ফেলা হয়। তবে ড্রেন দিয়ে খালে যে পানি পড়ে, সেটি পরিষ্কার বলে দাবি করেন তিনি। অন্য মিল মালিকরাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

সান্তাহার নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এস রোশদানী বলেন, খাল-বিলের মাছ একসময় অত্যন্ত সুস্বাদু ছিল। কলকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য পানিতে ইরামতি খালের পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ভরাট ও কচুরিপানায় খালটি এখন মৃতপ্রায়। বর্জ্য পানি ফেলা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিশির কুমার দে বলেন, নমুনা পরীক্ষায় মিল ও ইরামতি খালের পানি প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে দেখা গেছে। নমুনায় ছাই ও ধাতব উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হেভি মেটাল পরীক্ষা করা হলে ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান জানান, উল্লেখ করা ছয়টি মিলের মধ্যে বুশরা অটো রাইস মিলের ছাড়পত্র নবায়ন করা রয়েছে। তবে নির্গত দুর্গন্ধযুক্ত ও দূষিত তরল বর্জ্য ড্রেন দিয়ে সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   চালকল  বর্জ্য  ফসলি জমি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: