অতিভারী বৃষ্টিতে এবং ভারতের বিভিন্ন অংশের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে প্লাবিত হতে পারে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বহু এলাকা। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এমন আশঙ্কা ঘিরে দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান আর জলবায়ু সংকটে প্রতিবছরই কম-বেশি বন্যা কবলিত হচ্ছে দেশ। কখনও কখনও ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণ হয়ে উঠছে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
বন্যার এ বছরের পূর্বাভাসও খুব একটা স্বস্তির নয়। আগামী কয়েকদিন অতিভারি বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রংপুর, সিলেট এবং ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের মধ্যাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতর।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এবার ভারী বৃষ্টির আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এরইমধ্যে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে সতর্কসীমায় পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও দেখা দিচ্ছে ভাঙন। বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা এবং ময়মনসিংহের সোমেশ্বরীর পানি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, আগামী তিনদিন রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার নদীর অববাহিকায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলা এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় আগাম ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের পাশাপাশি প্রস্তুত হচ্ছে রেড ক্রিসেন্টের মতো সহযোগী সংস্থাগুলোও।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম বলেন, বাংলাদেশে রেড ক্রিসেন্টের ৬৮টি ইউনিট রয়েছে। প্রত্যেক ইউনিটকে আমরা এ ধরনের পরিস্থিতির সম্পর্কে সজাগ রেখেছি। যথাসম্ভব তাদেরকে প্রস্তুতির জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে, যাতে তারা সঙ্গে সঙ্গে কাজে নেমে পড়তে পারে।
জুনের শেষভাগ থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং উজান মিলিয়ে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ