শিক্ষার্থীদের স্কুলের পড়া স্কুলেই শেষ করাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।
শনিবার (৮ আগস্ট) নাটোরের লালপুর বিলায়েত খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিকের বাচ্চাদের ক্লাসে না পড়িয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে তাদের খেলাধুলার সময় দেয়া হয় না। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয় তাদের ক্লাস রুমে শিক্ষাদানের জন্য। প্রয়োজনে বাড়তি ক্লাস নেওয়া যেতে পারে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ এবং খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এ সময় বর্তমান সরকার শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষতার কাজ শুরু করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিমুখ করে রাখা হয়েছিল। ফলে মানসিক শক্তি হারিয়ে হতাশা থেকে তারা অনলাইন জুয়া আর মাদকের ভয়াল ছোবলের শিকার হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসক প্রকৃত শিক্ষা থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করেছে। কারণ প্রকৃত শিক্ষা পেলে তারা কথা বলতে শিখবে, মেরুদণ্ড সোজা করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখবে।’
ফারজানা শারমিন বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর শিক্ষার্থীদের মাথায় পড়াশোনার বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, জিপিএ ফাইভ প্রাপ্তির যুদ্ধক্ষেত্রের যোদ্ধা করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী এই চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যাও করেছে। আমরা এমন শিক্ষাব্যবস্থা চাই না। আমরা চাই, আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করবে।’
তিনি বলেন ‘পড়াশোনার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের প্রাইভেট পড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের সন্তানদের সম্পদে পরিণত করতে শিক্ষকদের আন্তরিক হতে হবে।’