মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা শেষে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী ও অর্থ সচিবের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। আগামীতে তাদের কর্মসংস্থান আরও বাড়বে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের অ্যাসোসিয়েশন আমাদের একটি স্মারকলিপি দিয়েছে কর্মসংস্থানের বিষয়ে। ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী ও অর্থ সচিবের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। এই ফ্যাকালিটির ছাত্রছাত্রীরা যাতে পড়ালেখা শেষে চাকরির নিশ্চয়তা পায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের কর্মসংস্থান বাড়বে।’
মৎস্য খাতে জনবল ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বক্তব্যে অনেকেই বলেছেন, একটি উপজেলায় একজন ফিশারিজ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ৫০০ জনের অধিক জনবলের অনুমোদন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী জনবল নেওয়া হবে।
প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ভেটেরিনারি হাসপাতাল রয়েছে। সরকার কীভাবে দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একটি করে আধুনিক ও উন্নতমানের ভেটেরিনারি হাসপাতাল করা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে।
এ সময় দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাস করি। যতবার এই দেশের মানুষ নিরপেক্ষভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবার বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে বেছে নিয়েছে। বিএনপি কখনোই গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি। বিএনপি একটি আধুনিক, উদার গণতান্ত্রিক দল।’
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরের জন্য রায় দিয়েছেন, পাঁচ বছর দেখেন আমাদের কর্মকাণ্ড। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, খাল খননসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যতগুলো কর্মকাণ্ড নিয়েছেন, জনগণের স্বার্থে নিয়েছেন।’
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, জনগণই বিচার করবে কে দেশ পরিচালনা করবে। আপনারা সেই পথে হাঁটছেন না। আপনারা ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছেন।’
বিএসভিইআরের ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলীমুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং ইন্টার এগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ কে এম খসরুজ্জামান।
তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ ও বিদেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, প্রাণিচিকিৎসক, নীতিনির্ধারক, প্রাণিসম্পদ খাতের উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সময়ের আলো/টিকে