অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় আসামি নাসরিন সিকদার সেজে আদালতে জামিন নিতে এসে ধরা পড়েছেন মনোয়ারা বেগম নামে আরেক নারী।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কামরুজ্জামান সুমন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মনোয়ারার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
২৯ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২৩ মার্চ নিবেদিতা আহমেদ তুলি নামে একজন সরকারি চাকরিজীবী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার ধার্য তারিখ ছিল ১৬ জুন। সে দিন আসামি আদালতে হাজির হননি। আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
বৃহস্পতিবার আসামি নাসরিনের হয়ে মনোয়ারাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। শুনানিকালে তাকে এজলাসের সামনে ডেকে নেন বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপি। এ সময়ে মনোয়ারার মুখে মাক্স পরা ছিল। বিচারক মাক্স খুলতে বলেন। কয়েক দফা বলার পরও মাক্স খুলতে রাজি হননি মনোয়ারা। পরে পুলিশের একজন নারী সদস্য তার মুখ থেকে মাক্স খুলে নেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের অফিস সহায়ক শাহ আলম বলেন, যার বিরুদ্ধে মামলা তার বাসা গুলশানে। আর মামলা ২৯ লাখ টাকার। মনোয়ারার বেশভূষা দেখে সন্দেহ হয় বিচারকের। স্বামীর নাম, বাবার নাম জানতে চান। স্বামীর নামের জায়গায় বাবার নাম আর বাবার নামের জায়গায় বলেন স্বামীর নাম।
তিনি আরও বলেন, বিচারক তার কাছে জানতে চান, কত টাকার মামলা। মনোয়ারা বলেন, ৩০ লাখ টাকার। বিচারক জানতে চান, এত টাকা দিয়ে কী করছেন? মনোয়ারা বলেন, `আর কইয়েন না, স্যার’। আপনি তাহলে কেন আসছেন? মনোয়ারা বলেন, মামলা খালাস করতে আসছি।
অফিস সহায়ক বলেন, বিচারক তার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে মনোয়ারা আইনজীবীর চেম্বারে রেখে এসেছেন বলে জানান। তিনি সেখান থেকে পরিচয়পত্র নিয়ে আসার কথা বলেন। তবে বিচারক তাকে যেতে দেননি। মনোয়ারাকে স্বাক্ষর করতে বললেও তিন দিতে পারেননি, টিপসই দেন।
এরই মাঝে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। পরে বিচারক মনোয়ারাকে আসামির কাঠগড়ায় আটকে রাখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। তবে মনোয়ারা নিজের ছবি দিয়ে নাসরিন সিকদার নামে জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেছেন বলে জানান অফিস সহায়ক শাহ আলম।
সময়ের আলো/আআ