মাত্র দু-দিন আগেই পালিত হয়েছে ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির জন্মদিন। তাই ২৪ জুন তারিখটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ছিল অত্যন্ত বিশেষ একটি দিন। মেসির জন্মদিন নিয়ে কত খবরই না হয়েছে, কিন্তু একই দিনে আর্জেন্টিনা দলের আরও দুই সদস্যেরও জন্মদিন— এ তথ্য খুব কম মানুষই জানেন।
তবে তারা কোনো ফুটবলার নন। বরং আড়ালে থেকে কাজ করাই তাদের দায়িত্ব। এই বিশেষ দিনে আর্জেন্টিনা দলের ক্যাম্পে বাড়তি কেক কাটার আয়োজন হয়। কারণ, সেদিন মেসির পাশাপাশি দলের প্রধান রাঁধুনি দিয়েগো ইয়াকোভোনে এবং রন্ধনশিল্পী অ্যান্তোনিয়া ফারিয়াসেরও জন্মদিন ছিল।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দেখা যায়, মেসি এই দুই সহকর্মীর সঙ্গে জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন। এরপর আবারও আলোচনায় উঠে আসেন ইয়াকোভোনে ও ফারিয়াস।
৪৬ বছর বয়সী অ্যান্তোনিয়া ফারিয়াস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সঙ্গে কাজ করছেন। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর একটি আবেগঘন মুহূর্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি। শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে মেসি দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই ভুল করে অ্যান্তোনিয়াকে মেসির মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি ভেবেছিলেন। তবে ভুলটা খুব একটা অমূলকও ছিল না; খেলোয়াড়দের কাছে তিনি একজন খালা কিংবা ‘দ্বিতীয় মা’র মতোই প্রিয়।
আর্জেন্টিনা দলের কাছে অ্যান্তোনিয়া এখন যেন এক ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’। ব্রাজিলের মাটিতে কোপা আমেরিকা জয়, ফিনালিসিমা, কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা— দলের সাম্প্রতিক সব বড় সাফল্যের সফরসঙ্গী ছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ১৯৯৯ সাল থেকে এএফএর সঙ্গে থাকা দিয়েগো ইয়াকোভোনে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের প্রিয় ‘আসাডো’, অর্থাৎ ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউর মূল কারিগর। বিশেষ করে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ এবং ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি তার রান্নার বড় ভক্ত।
বাইরের পৃথিবীর কাছে অ্যান্তোনিয়ার কাজটা নীরব ও আড়ালেই থেকে যায়, কিন্তু দলের ভেতরে তার প্রভাব অপরিসীম। খেলোয়াড়রা যাতে মাঠের লড়াইয়ে শতভাগ মনোযোগ দিতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরির পেছনে নিরলস কাজ করে যান অ্যান্তোনিয়া ও দিয়েগো। শুধু পুষ্টিকর খাবারই নয়, তারকাদের ছোট-বড় আবদারও হাসিমুখে পূরণ করেন অ্যান্তোনিয়া।
সাবেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরো কাতার বিশ্বকাপের সময় ড্রেসিংরুমের একটি গোপন তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানান, প্রতিটি ম্যাচ জয়ের পর খেলোয়াড়দের বিশেষ এক আপ্যায়ন করা হতো। সেটি ছিল- টমেটো সস ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের সাথে অ্যান্তোনিয়ার হাতের স্পেশাল ব্রেডেড ভিল কাটলেট
মেসিদের রান্নাঘরে কেক-পেস্ট্রি, টার্ট ও নানা ধরনের মিষ্টান্ন তৈরির প্রধান দায়িত্বও অ্যান্তোনিয়ার। তার তৈরি হ্যাম ও চিজের টার্ট কিংবা মিলানেসার সুখ্যাতি এখন বুয়েনস এইরেসের এজেইজা ট্রেনিং ক্যাম্পের সীমানাও পেরিয়ে গেছে।
আর্জেন্টিনার মাঠের সাফল্যের পেছনে এই নেপথ্য কারিগরদের ভালোবাসা আর হাতের জাদু যে কতটা বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করে, অ্যান্তোনিয়া ফারিয়াসের গল্পই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
সময়ের আলো/কেএইচও