দেশের ব্যাংক খাত যখন একদিকে ঋণ অনিয়ম, তারল্য সংকট ও আস্থার চ্যালেঞ্জের মুখে, ঠিক তখনই শীর্ষ নির্বাহীদের বেতন-ভাতা নিয়ে উঠে এসেছে ব্যতিক্রমী চিত্র। ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইওদের পারিশ্রমিক পৌঁছেছে কোটি টাকার ঘরে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বহু গুণ বেশি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ মাসিক গড় বেতন পেয়েছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী, যার পরিমাণ প্রায় ৩৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। বছরে এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা দিনে গড়ে ১ লাখ টাকার বেশি। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সিটি ব্যাংক এবং ব্যাংকটির এমডি ও সিইও মাশরুর আরেফিন পারিশ্রমিকের দিক থেকে শীর্ষে অবস্থান করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে তার বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে তার আয় বৃদ্ধি পায় প্রায় ৫৮ শতাংশ। যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
আরও পড়ুন
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন আলী রেজা ইফতেখার, যিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে অবসর নেন। ২০২৫ সালে তার মোট আয় ছিল প্রায় ৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
এরপর রয়েছেন আবুল কাশেম মোহাম্মদ শিরিন, যিনি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে অবসর নেওয়ার আগে বছরে পেয়েছেন প্রায় ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
তালিকার বাকি অংশেও দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য বেতন কাঠামো। ২ কোটি টাকার বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া এমডিদের মধ্যে রয়েছেন-
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক: ২ কোটি ৮৬ লাখ
ব্র্যাক ব্যাংক: ২ কোটি ৫৬ লাখ
যমুনা ব্যাংক: ২ কোটি ৫০ লাখ
ব্যাংক এশিয়া: ২ কোটি ৪৩ লাখ
আল-আরাফাহ্ ব্যাংক: ২ কোটি ১৪ লাখ
প্রাইম ব্যাংক: ২ কোটি ৬ লাখ
মিডল্যান্ড ব্যাংক: ২ কোটি টাকা
১ থেকে ২ কোটি টাকার মধ্যে রয়েছেন আরও একাধিক ব্যাংকের এমডিরা, যাদের মধ্যে ইউসিবি, শাহজালাল, মার্কেন্টাইল, প্রিমিয়ার, স্ট্যান্ডার্ড, ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের নাম রয়েছে।
অন্যদিকে ১ কোটি টাকার নিচে পারিশ্রমিক পাওয়া এমডিদের তালিকায় রূপালী, এবি, ন্যাশনালসহ কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী রয়েছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এমডি ও সিইওদের বেতন নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এখানে সীমিত।
এএডি/