নিজে গোল না করলেও, মাঠ ছাড়লেন অনন্য এক কীর্তি নিজের করে নিয়ে। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে জালে বল না পাঠালেও সতীর্থ উসমান দেম্বেলেকে দিয়ে করালেন দুটি গোল। আর এই জোড়া অ্যাসিস্টের ওপর ভর করেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সরাসরি গোলে অবদানের তালিকায় কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে গেলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এবারের আসরে নরওয়ে বধের পর বিশ্বকাপে এমবাপ্পের সরাসরি গোলে অবদান এখন ২০টিতে গিয়ে ঠেকল। বিশ্বমঞ্চে এই ফরাসি তারকা নিজে করেছেন ১৬টি গোল, আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি। এই চোখধাঁধানো মাইলফলক ছুঁয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সরাসরি গোলে অবদান রাখার তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। এখন তার ওপরে আছেন কেবল ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি।
আপাতত বিশ্বমঞ্চের সর্বকালের গোল অবদানের তালিকায় রাজত্ব করছেন মেসি। তার মোট অবদান ২৭টি গোলে, যার মধ্যে ১৮টি গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট রয়েছে। ঠিক তার পেছনেই ২০টি গোল অবদান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানটি এখন এমবাপ্পের একক দখলে। এই তালিকায় ১৯টি করে গোলে অবদান রেখে যৌথভাবে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছেন চার কিংবদন্তি—ব্রাজিলের পেলে (১২ গোল, ৭ অ্যাসিস্ট), জার্মানির গার্ড মুলার (১৪ গোল, ৫ অ্যাসিস্ট), ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (১৫ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট) এবং জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজে (১৬ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট)।
ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লেখানোর পাশাপাশি এবারের আসরে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও সমানে টক্কর দিচ্ছেন এমবাপ্পে। ৫ গোল নিয়ে সবার ওপরে থাকা মেসির ঠিক পেছনেই ৪ গোল নিয়ে ওত পেতে আছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
গোল্ডেন বুটের এই রেসে ৪ গোল নিয়ে লড়াইয়ে আছেন নরওয়ের এরলিং হালান্ডও, যদিও আজকের ম্যাচে তাকে বেঞ্চেই বসে থাকতে হয়েছে। টুর্নামেন্টের বাকি পথটুকুতে মেসি ও এমবাপ্পের এই দ্বৈরথ যে আরও জমজমাট রূপ নেবে, তা বলাই বাহুল্য।
সময়ের আলো/আরবিএন