‘কোচদের কোচ’ মার্সেলো বিয়েলসার বিশ্বকাপে প্রাপ্তির খাতা যেন শূন্য

আসহাব আরমান

খেলা

বার্সেলোনার দায়িত্ব পেয়ে পেপ গার্দিওলা আর্জেন্টিনায় গিয়েমার্সেলো বিয়েলসার সঙ্গেদেখা করেছিলেন। আলোচনা শেষে গার্দিওলা বলেছিলেন, বিয়েলসা বার্সেলোনা নিয়ে যা জানেন, আমি

2026-06-27T23:45:17+00:00
2026-06-27T23:47:20+00:00
 
  রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬,
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
খেলা
‘কোচদের কোচ’ মার্সেলো বিয়েলসার বিশ্বকাপে প্রাপ্তির খাতা যেন শূন্য
আসহাব আরমান
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম  আপডেট: ২৭.০৬.২০২৬ ১১:৪৭ পিএম
মার্সেলো বিয়েলসা। ছবি : সংগৃহীত
বার্সেলোনার দায়িত্ব পেয়ে পেপ গার্দিওলা আর্জেন্টিনায় গিয়ে মার্সেলো বিয়েলসার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। আলোচনা শেষে গার্দিওলা বলেছিলেন, বিয়েলসা বার্সেলোনা নিয়ে যা জানেন, আমি কোচ হয়েও তা জানি না। একইভাবে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব পেয়ে জিনেদিন জিদানও মার্শেইতে গিয়ে বিয়েলসার সান্নিধ্যে তিন ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন।

শুধু গার্দিওলা কিংবা জিদান নন, ইয়ুর্গেন ক্লপ, মাউরিচিও পচেত্তিনো, দিয়েগো সিমিওনে, হোর্হে সাম্পাওলি ও জেরার্ডো মার্টিনোসহ আধুনিক ফুটবলের অনেক সফল কোচ বিয়েলসার কাছ থেকে শিখেছেন এবং তার ফুটবল দর্শনের প্রভাব স্বীকার করেছেন অকপটে। তাই তাকে বলা হয় ‘কোচদের কোচ’। ফুটবল কৌশল ও কোচিং চিন্তাধারায় তাঁর প্রভাব অত্যন্ত গভীর।

ফুটবল নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তায় মগ্ন থাকার কারণে খেলোয়াড়েরা বিয়েলসাকে উপাধি দিয়েছিল ‘এল লোকো’- যার অর্থ উন্মাদ বা পাগলাটে। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন তার ভাগ্য লেখার সময় কার্পণ্য করেছেন। যার শিষ্যরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে শিরোপা উৎসব করেছেন, সেই গুরু বিয়েলসা বারবার বিশ্বকাপ থেকে ফিরেছেন খালি হাতে। বিশ্বকাপে ৩টি ভিন্ন দেশের ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছিলেন চিলির হয়ে ২০১০ সালে। সেবার বিয়েলসার দল শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল।


২০০২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচ হয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপে আসেন বিয়েলসা। তবে সবাইকে অবাক করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তাঁর দল। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের ডাগআউটে দাঁড়ান অভিজ্ঞ এই কোচ। তবে ফলাফল সেই একই; শনিবার (২৬ জুন) স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে তাঁর দল। এর আগে সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ড্র করায় টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচেও জয়ের মুখ দেখেনি দলটি।

বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর এর সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে এই তিন বছরের সফরে উরুগুয়ের ফুটবলের জন্য পেছনে কিছুই রেখে যেতে পারলাম না।’

৭০ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘একজন কোচ তিন বছর দায়িত্ব পালন করার পর তার অবদান তখনই টিকে থাকে, যখন সাফল্য আসে। বাছাইপর্বে চতুর্থ হওয়া বা কোপা আমেরিকায় তৃতীয় স্থান লাভ করার এখন আর কোনো মূল্য নেই। আর আজ যা ঘটল, তা তো সবার সামনেই স্পষ্ট।’


মার্সেলো বিয়েলসার জন্ম ১৯৫৫ সালে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে। ফুটবল নিয়ে আগ্রহ সেই ছোটবেলা থেকেই। ২১ বছর বয়সে রোজারিওর ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলা শুরু করলেও বিয়েলসা বুঝতে পারেন, তার ফুটবলীয় টানটা পায়ে নয়, বরং মগজে। খেলা ছেড়ে দেন সেই সময়েই। ‘জ্ঞানই শক্তি’—দাদা থেকে পাওয়া এই মূলমন্ত্রকে পুঁজি করে বিয়েলসা পাগলের মতো আহরণ করেছেন ফুটবলীয় জ্ঞান।

বিয়েলসার ভাষ্যমতে, নিজের প্রথম ১৬ বছর তিনি কাটিয়েছেন নিজের আদর্শ মানা দুই কোচকে দেখে। প্রথম আট বছর ছিলেন মেনোত্তিতে আবিষ্ট, পরের আট বছর নিরীক্ষা করেছেন কার্লোস বিলার্দোকে। আর্জেন্টিনার এই দুই বিশ্বকাপজয়ী কোচই বিয়েলসার ডাগআউটে আসার অনুপ্রেরণা ছিলেন। তার পরিশ্রমেই বিশ্ব পেয়েছিল বাতিস্তুতা, আয়ালা, পচেত্তিনো, ওয়াল্টার স্যামুয়েল, জানেত্তি ও সিমিওনেদের।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   মার্সেলো বিয়েলসা  বিশ্বকাপ  প্রাপ্তি  ফুটবল 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: