প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ‘বাংলাদেশ প্রথম’ এই নীতির বড় সাফল্য এসেছে। এই সফর নিয়ে শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং সংসদ সদস্যরা এই সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই সফর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বড় স্বাক্ষর। এই সফরে প্রতিরক্ষা, কূটনীতি, বিনিয়োগ-বাণিজ্য, মানবসম্পদ, পানি ও রোহিঙ্গা সংকটসহ একাধিক ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান শনিবার এমন মন্তব্য করেন। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বিডা চেয়ারম্যান ও পররাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান শনিবার বলেন, বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। বেইজিং খুব সীমিতসংখ্যক দেশের সঙ্গে এই স্তরের অংশীদারত্ব বজায় রাখে। চীন সব দেশের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখে না।
এশিয়ায় থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাদের এমন অংশীদারত্ব রয়েছে। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় যুক্ত হলো। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন এবং এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।
অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে চীনের প্রস্তাবের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ঢাকা এখনও কোনো চূড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছায়নি। আমরা চীনের করিডোর প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছি। তবে এখনও কোনো অবস্থান নেইনি।
করিডোর নিয়ে সরকারের আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ পরিবহন খরচ কমানো। বিশেষ করে কুনমিং থেকে মিয়ানমারের বন্দরগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে পণ্য পরিবহন খরচ ও সময় অনেক কমে আসবে, যা বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
বাংলাদেশ চীন সফর থেকে নগদ কী পেল?
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাই নাই। দুই দেশের সম্পর্কের অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর। এটা ঠিক হলে বাকিগুলো ভবিষ্যতে আসবে। একটু আত্মসম্মানবোধ রাখেন। এ ধরনের বিব্রতকর প্রশ্ন করবেন না।
তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আমরা আশা করি, খুব দ্রুতই এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হবে।
রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে চীনের সহযোগিতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে চীন আমাদের বলেছে যে তারা বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার দুই পক্ষকে সাহায্য করবে, যাতে দ্রুততার সঙ্গে এই সমস্যার সমাধান হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনটি পক্ষ আছে। তিনটা পক্ষের একটা হচ্ছে মিয়ানমার, আরেকটা এখন জায়গাটা যাদের অধীনে আছে আরাকান আর্মি এবং বাংলাদেশ।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা যারা আমাদের দেশে আশ্রিত আছেন, তারাও একটা পক্ষ। প্রধানমন্ত্রী যখন আমাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরাকান আর্মিপ্রধান; উভয়পক্ষই আমাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। আমি বেশি খোলাসা করে বলতে পারব না। তাই আমাদের যোগাযোগ আছে। বর্তমান সরকার যে ধরনের জনসমর্থন নিয়ে এসেছে, যে শক্তিতে এসেছে; আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনগুলোতে আমরা এই সমস্যার সমাধানের একটা পথ দেখতে পাব। আপনারা মনে রাখবেন, আগে দুবার কিন্তু বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করেছে; এটা সবাই জানে এবং আমরা যে সমাধান করব, এটাও সবাই জানে।
তিস্তা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে প্রথমবারের মতো দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা মিলে একটি কারিগরি সমীক্ষা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীন এই প্রকল্পে যথাসাধ্য সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে। এবারের চীন সফর আগের সফরগুলোর চেয়ে গুণগতভাবে আলাদা। কেননা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই-তৃতীয়াংশ জনসমর্থন নিয়ে গঠিত সরকারের পক্ষ থেকে এই সফর করেছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছাড়াও দেশটির অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ থেকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার জন্য একটি মেকানিজম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ছিল। টু প্লাস টু মেকানিজম চালুর জন্য দুপক্ষ সম্মত হয়েছে। যেখানে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র সমন্বয়ের জন্য এই মেকানিজম কাজ করবে। এই সফর অত্যন্ত সফল, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এখন আরও গভীর, বিস্তৃত ও উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় সরকারি দ্বিপক্ষীয় সফরের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হচ্ছে- দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে দুটি নোট বিনিময়। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক দ্রুত পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উভয় পক্ষের ঐকমত্য।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি আলোচনা দ্রুত শুরু এবং ২০২৭ সালের মধ্যে একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক, সমন্বিত ও ভবিষ্যৎমুখী চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার অঙ্গীকার পাওয়া গেছে। মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিকে স্বাগত জানানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, পারস্পরিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা।
শ্রম সহযোগিতা বিষয়ে নিরাপদ, নিয়মিত ও স্বচ্ছ অভিবাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত এবং বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু, দক্ষ কর্মী প্রেরণ, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ বিষয়গুলো বিশেষ করে ৮০০০ শ্রমিকের কর্মে যোগদানের বিষয়টি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস প্রদান করেছেন এবং মালেশিয়ায় অবস্থানরত এবং নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও নিয়োগ ব্যয় হ্রাসের বিষয়ে উভয়পক্ষের ঐকমত্য হয়েছে।
শ্রম সহযোগিতাবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের মাধ্যমে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক মূল্যায়ন এবং বর্তমান প্রয়োজনের আলোকে নতুন-হালনাগাদ প্রণয়নের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার সক্রিয় ভূমিকার আশ্বাস, আসিয়ান কাঠামোর আওতায় বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি সাধনে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণে মালয়েশিয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত এবং আসিয়ান কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও জোরদারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ। জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বন্দর ও লজিস্টিকসসহ অগ্রাধিকার খাতে মালয়েশিয়া বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন সফরের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো হচ্ছে- ওয়ার্ল্ড ইকোমিক ফোরামে বিশ্বের উদীয়মান শক্তিগুলোর পুরোধা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এই ফোরামে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ বিশ্ব ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মুখবর্তী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে এই ফোরামে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।
ওয়ার্ল্ড ইকোমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইওর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংস্থাটির বার্ষিক সভায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উত্থাপনের প্রস্তাব করেন এবং ফোরামের সিইও এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বেইজিং সফরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ থেকে ‘একই ভবিষ্যৎ নিয়ে চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ চালুকরণের সিদ্ধান্ত।
দুই দেশের কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে টু প্লাস টু সংলাপের মেকানিজম চালুকরণ। মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের ব্যাপারে একমত পোষণ। বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের (বিআরআই) আওতায় বড় ও ছোট জনকল্যাণমূলক প্রকল্প- উভয় ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপারে সম্মতি পাওয়া গেছে।
উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ দুই দেশের মধ্যে ৮টি সমঝোতা স্মারক, ৩টি চুক্তি, ১টি প্রটোকল এবং ১টি যৌথ অ্যাকশন প্ল্যান স্বাক্ষর হয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক দল বিএনপি ও সিপিসির মধ্যে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর এবং বিডার সঙ্গে চীনের প্রাইভেট এনটিটির সঙ্গে ২টি চুক্তি এবং ১টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের প্রস্তাব, বিশেষত কুনমিং থেকে বাংলাদেশের বন্দরগুলোতে মাল্টিমোডাল পরিবহন সংযোগ এবং চীন কর্তৃক প্রস্তাবিত চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি-চীন সর্বসাধ্য সহায়তা প্রদান করবে এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ত্বরান্বিতকরণ বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত পোষণ করেছে।
সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা প্রতিরোধ, নদী ড্রেজিং ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা গভীর করার বিষয়ে একমত হওয়া গেছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিকরণ, বাংলাদেশের ব্রিকস, এসসিও এবং আরসিইপি এ যোগদানের বিষয়ে চীনের সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
সময়ের আলো/জেডি