ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ডা. মাহমুদা আলম মিতু সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে এমপি হওয়ার সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এই নেত্রী। তিনি লিখেছেন, এমপি হওয়ার পর জীবনটাকে একদিনও উপভোগ করতে পারিনি।
রোববার (২৮ জুন) মধ্যরাতে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পোস্টে মাহমুদা আলম মিতু লিখেছেন, আমার একটা সুন্দর, হাসিখুশি জীবন ছিল। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে করতে নিজের অজান্তেই সেই জীবনটা অন্য এক জীবনে রূপ নিল। আমার এই আইডিটা একসময় এমন ছিল, যেখানে একটু ঘুরে গেলেই মানুষের মন ভালো হয়ে যেত। ইচ্ছেমতো সার্কাজম করতাম, মজা করতাম, আড্ডা দিতাম। তারপর ২০২৪ এল, সবকিছু যেন এলোমেলো হয়ে গেল। শুধু আমার নয়, আমার মতো আরও অনেকের জীবনই হয়ত বদলে গেছে। মনের ভারের পাশাপাশি শরীরেও নানা রোগ বেঁধেছে।
এনসিপির এই নেত্রী লিখেছেন, অনেকেই ভাবেন, এমপি হয়েছে, কত কিছু পেয়েছে! অথচ সত্যিটা হলো, আমার এমন একটি ক্যারিয়ার, পরিচিতি এবং কাজের অভিজ্ঞতা ছিল, যা দিয়ে চাইলে আজকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। হয়ত আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। এমপি হওয়ার পর এই জীবনটাকে আমি একদিনও উপভোগ করতে পারিনি। হেসেছি অনেক। তবে কারণ শুধু এই নয় যে, আমি আর আমার প্রিয় গাইনোকোলজির বই খুলে বসি না। আসল কারণ হলো, এই পথ চলতে গিয়ে কোথাও যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি।
মাহমুদা মিতু লেখেন, আমি মাথা না নোয়ানো মেয়ে, আজকাল মাথা নোয়াতে হয়, সবার ভালোর জন্য কম্প্রোমাইজ করতে হয়। এখন আর মন চাইলেই প্রতিবাদ করতে পারি না। অট্টহাসি দেখলেও বলতে পারি না, একবার ভাবুন, কোথা থেকে কোথায় এসেছেন। একটু মাটির দিকে তাকান, দয়া করে। কত বিপ্লবীর রক্তে রাঙা এই মাটি!!!
তিনি আরও লেখেন, সংসদে যতবার জুলাই নিয়ে আলোচনা হয়, ততবার মনে হয় ভেতরের সবকিছু চুরমার হয়ে যাচ্ছে। কান্না পায়। সেই ছেলেগুলোর লাশ চোখে ভাসে, কিন্তু সেই কান্নাটুকু চেপে লুকিয়ে ফেলতে হয়। হেরে যাচ্ছি যে- সেটা কাউকে বুঝতে দিতে মন চায় না।
মিতু লেখেন, ক্ষমতা মানুষকে সবসময় শক্তিশালী করে না, কখনও কখনও সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় নিজের স্বাভাবিক হাসি, নিজের স্বাধীনতা আর নিজের সত্তাকে। সেই মূল্যটা যারা দেয়, তারাই জানে এর ভার কতটা।
সবশেষে মিতু লেখেন, রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আজ হয়ত অনেকেই অনুভব করছেন না। কিন্তু সময়ই একদিন এর মূল্য বুঝিয়ে দেবে। দিন শেষে সবচেয়ে বড় আশ্রয় একটাই, আল্লাহ আছেন। তিনি অন্তর্যামী , মানুষের উচ্চারিত শব্দের চেয়েও নীরব দীর্ঘশ্বাস তিনি বেশি জানেন। তিনি সব দেখেন, সব জানেন এবং তার বিচারই সর্বোত্তম। সেই অপেক্ষায় রইলাম।
সময়ের আলো/মহু