দেশে বৈধ পথে আমদানিকৃত অফিশিয়াল স্মার্টফোনের দাম আগামী ১ জুলাই থেকে আরও বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের ওপর দেওয়া বিদ্যমান শুল্কছাড়ের মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে বৈধ পথে আসা স্মার্টফোনের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ বা ‘গ্রে-মার্কেট’-এর হ্যান্ডসেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বৈধ আমদানিকারকদের টিকিয়ে রাখতে চলতি বছরের গত জানুয়ারিতে সরকার আমদানিকৃত স্মার্টফোনের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছিল।
আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই বিশেষ সুবিধার কারণে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের ওপর সামগ্রিক করের হার ৬৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৩.৪৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে এই সুবিধার মেয়াদ আর না বাড়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর করের হার পুনরায় ৬৪.২৫ শতাংশে ফিরে যাচ্ছে।
বর্তমানে দেশে এন্ট্রি-লেভেল এবং মিড-রেঞ্জ ফোনের একটি বড় সংযোজন শিল্প গড়ে উঠলেও অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং এবং শাওমির মতো ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম বা ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনগুলোর জন্য দেশ এখনো পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। নতুন করে অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা যুক্ত হওয়ায় এসব ফ্ল্যাগশিপ ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত জানুয়ারিতে শুল্ক কমানোর আগেই বিশ্ববাজারে যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার কারণে অনেক ব্র্যান্ড স্মার্টফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। এখন শুল্কের হার পুনরায় ৬৪ শতাংশের ওপরে চলে গেলে বৈধ ও অবৈধ বাজারের ফোনের দামের পার্থক্য আরও প্রকট হবে। ফলে ক্রেতারা কম দামে চোরাই বা অবৈধ ফোন কিনতে উৎসাহিত হতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, উচ্চ শুল্কের কারণে বৈধ পথে আমদানি কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে পারে। এদিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) প্রযুক্তি চালু করলেও এখনো গ্রে-মার্কেটে দেদারসে চোরাই ফোন বিক্রি হচ্ছে, যা বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সময়ের আলো/জেডি