শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখতে বান্দরবানের থানচির তিন্দুর মতো চরম দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এক প্রধান শিক্ষকের অদম্য লড়াই ও ত্যাগের গল্প এবার অনন্য স্বীকৃতি পেল। স্কুলের শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন দিতে ছুটির দিনে নিজে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালানো সেই মহান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের স্কুলটি সরকারি (জাতীয়করণ) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে শিক্ষা উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্গম পাহাড়ের এই আলোর পাঠশালাটিকে জাতীয়করণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের শিক্ষানুরাগী মহল।
জানা গেছে, থানচির তিন্দু এলাকার ওই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিতে তীব্র অর্থসংকটের কারণে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে হাল ছাড়েননি প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। সহকর্মীদের ধরে রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সচল রাখতে তিনি ছুটির দিনগুলোতে থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী নদীপথে পর্যটক ও যাত্রী বহনের জন্য নিজে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালানো শুরু করেন।
কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গত মার্চ ও এপ্রিল মাসেই নৌকা চালিয়ে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেছিলেন। শিক্ষার প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে সেই আয়ের সিংহভাগ, অর্থাৎ ৩০ হাজার টাকাই তিনি নিজের পকেটে না রেখে সহকর্মী শিক্ষকদের বেতন হিসেবে বিলিয়ে দেন। দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলো নেভেনি মূলত তাঁর এই মানবিক ও অদম্য জেদের কারণেই।
পাহাড়ি অঞ্চলের এক শিক্ষকের এমন নিঃস্বার্থ সংগ্রাম ও দায়িত্ববোধের মানবিক গল্পটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে স্কুলটিকে সরকারি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
স্কুলটি জাতীয়করণ হওয়ায় এখন থেকে আর শিক্ষকদের বেতনের অভাব হবে না এবং দুর্গম অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত শিক্ষার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডি