'হেয়ার কাট' নীতি বাতিল ও আমানতের টাকা ফেরতসহ পাঁচ দাবিতে ফের বিক্ষোভ করেছেন শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সামনে 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহকগণ' ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় শত শত আমানতকারী উপস্থিত ছিলেন।
আমানতকারীরা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের কারণে লাখো সাধারণ ও মধ্যবিত্ত আমানতকারী আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
তারা আরও বলেন, আমানতকারীদের বড় অংশই অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী,প্রবাসী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। পেনশনের অর্থ, জমি বিক্রির টাকা কিংবা প্রবাসীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এসব ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জমানো টাকা তুলতে না পারায় অনেক পরিবার চিকিৎসা,শিক্ষা ও নিত্যদিনের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিক্ষোভ থেকে আন্দোলনকারীরা তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, 'হেয়ার কাট' নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী মূল টাকা ও অর্জিত মুনাফা পরিশোধ, পাঁচটি ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চালু করা এবং তারল্য সংকট নিরসনে বিশেষ সহায়তা প্রদান। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ এবং ঘোষিত নতুন মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।
আমানতকারী সঙ্কটের দ্রুত সমাধান দাবি করে বলেন, সরকার কোন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না। গত দুই বছরে তারা সরকারের নীতিনির্ধারক ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে ব্যাংকগুলোর শাখা পর্যায়ে অবস্থান কর্মসূচি, কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা