পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য কাজী মৌসুমীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিনকেও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ মাহাবুব আলী মুয়াদ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছর আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়ায় নিজ বাসভবনে ঘরোয়াভাবে কেক কাটার আয়োজন করেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২০ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া বাদী হয়ে ৪৭ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করেন।
আসামি কাজী মৌসুমী ইতিপূর্বে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন লাভ করেছিলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল শুনানিতে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গোপনে উৎসাহিত করা, 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার মতো অপরাধে জড়িত। আদালতের কাছে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মির্জা সারওয়ার হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের শর্ত অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তার ডাকে উপস্থিত হওয়া এবং সকল নির্দেশনা পালন করার পরও আদালত তাদের জামিন দেননি। আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।
শুনানিকালে আসামিপক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ. হাসান প্রধানসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আদেশের পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাজী মৌসুমী ও নিলুফার ইয়াসমিনকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সময়ের আলো/আতা