লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে তীব্র বিদ্যুতের লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় মৎস্য খাত। বরফ কারখানাগুলোতে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ইলিশের ভরা মৌসুমেও গভীর সমুদ্র ও মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না জেলেরা। ফলে জেলে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকট।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামগতি উপজেলায় গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারী প্রায় ৩০০টিরও বেশি ট্রলার রয়েছে। পাশাপাশি মেঘনা নদীতে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত আছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি ছোট নৌযান। কিন্তু বিদ্যুতের দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজের কারণে বরফ কলগুলোতে চাহিদামতো বরফ তৈরি করা যাচ্ছে না।
বরফের তীব্র সংকটে পড়ে অনেক জেলে এখন মাছ ধরা বন্ধ রেখে কূলে বসে জাল মেরামত ও নৌযানের ঘষামাজার কাজ করছেন। ভরা মৌসুমেও মাছ ধরতে না পেরে হাত গুটিয়ে বসে থাকা জেলেদের দিন কাটছে কষ্টে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে আমরা ঠিকমতো বরফ উৎপাদন করতে পারছি না। ইলিশের ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত বরফ জোগাতে না পেরে আমরা নিজেরাও চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।
বরফ কিনতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় মৎস্যজীবী আকবর মাঝি। তিনি বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে ঘাট থেকে বরফ পাচ্ছি না। বরফ ছাড়া তো সাগরে মাছ পচে যাবে, তাই নদীতে বা সমুদ্রে যেতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে।
স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও লো-ভোল্টেজ সমস্যার সমাধান না করা হলে রামগতির পুরো মৎস্য খাতসহ এর সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
সময়ের আলো/আতা