চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় (শিপইয়ার্ড) বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন পলাশ দাশ (২৫) নামে এক তরুণ। মাত্র আট মাস আগে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করা পলাশ রেখে গেছেন তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ভূমিকা রানী দাসকে। অনাগত পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবাকে হারাল সন্তান, আর স্বামী হারানোর শোকে পাথর হয়ে গেছেন ভূমিকা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় পলাশসহ মোট নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরেই পলাশের ঘর। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়িতে এখন স্বজনদের কান্নার রোল। কপালে মুছে গেছে সিঁদুর, অনাগত সন্তানকে পেটে নিয়ে ঘরে বাগরুদ্ধ হয়ে বসে আছেন স্ত্রী ভূমিকা রানী দাস।
ঘরের আঙিনায় বিলাপ করতে করতে পলাশের বড় বোন রত্নারানী দাস বলেন, আট মাস হলো মাত্র ভাইটা বিয়ে করেছে। তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। আমাদের মা গুরুতর হার্টের রোগী, প্রতি সপ্তাহে অনেক টাকার ওষুধ লাগে। এখন এই পরিবারকে কে দেখবে?
পলাশের পাশাপাশি একই এলাকার সানি দাস নামের আরও এক তরুণসহ মোট নয়জন এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
স্থানীয় অধিবাসী ও নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের মারাত্মক গাফিলতির কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা এতটা বেড়েছে। ঘটনার পরপরই আহতদের বের হতে না দেওয়া এবং তাৎক্ষণিক অক্সিজেনের ব্যবস্থা না করার কারণেই অনেককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্বজনদের দাবি, সঠিক সময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে পলাশকে হয়তো এভাবে অকালে চলে যেতে হতো না। অনাগত সন্তান আর অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে এখন অন্ধকার ভবিষ্যতে দিন কাটাচ্ছেন ভূমিকা রানী দাস।
সময়ের আলো/আতা