যমুনার ভাঙনে বিলীন ২ শতাধিক বাড়িঘর, বাড়ছে তীব্রতা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুর গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ২ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

2026-08-14T23:08:57+00:00
2026-08-14T23:08:57+00:00
 
  শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬,
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
যমুনার ভাঙনে বিলীন ২ শতাধিক বাড়িঘর, বাড়ছে তীব্রতা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম 
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুর গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ২ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ছবি : সময়ের আলো
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুর গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ২ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অসহায় পরিবারগুলো যাওয়ার জায়গা না পেয়ে ভাঙন এলাকায় জরাজীর্ণ ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করছে ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ভাঙনের ভয়াবহতা এতোই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, কেউ বাড়িঘর ও আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাচ্ছে না। তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এই ভাঙন এলাকায় বালুর বস্তা ডাম্পিং করে ভাঙনরোধে জোর দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসী, বারপাখিয়া গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়ে এখনও তা অব্যহত রয়েছে। ভাঙনে গত ৩ মাসে শত শত বাড়িঘরের পাশাপাশি কৃষকদের শত শত বিঘা আবাদী জমি চোখের সামনে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙনের তাণ্ডবে এ পর্যন্ত ২টি মসজিদ মাদ্রাসা, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি অফিস ঘর, ২ শতাধিক বাড়িঘর, ২ হাজার বিঘা আবাদী জমি ও অসংখ্য গাছপালা যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হওয়া জমিতে প্রচুর পরিমানে ধান, পাট, সরিষা, বাদাম, তীল, কাউন, গম, ভুট্টা ও সবজি চাষ করা হতো। ধীতপুর-কুরসী গরুর হাট-বাজার যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গরু-ছাগল বেচা-বিক্রিতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। রাক্ষুসী যমুনায় তাদের জমিজমা সবকিছু বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ধীতপুর ঘোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিন, নুরুল ইসলাম ও জিন্নাহ মন্ডল জানান, এ এলাকার ভাঙনরোধে দ্রুত বালুভর্তি জিওটিউব বস্তা ফেলা জরুরী। কিন্তু সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ চরবাসিদের মূল্যায়ন না করায় এখানে বালুর বস্তা ফেলার উদ্যোগ নেয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম অবহেলায় আমাদের গ্রামগুলি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। 


কুরসি গ্রামের ইয়াসিন মোল্লা বলেন, যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আমার ৮ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব জমিতে আমি ভুট্টা, ধান, সরিষা, বেগুন, টমেটো সহ নানা জাতের সবজি চাষ করে স্বচ্ছল জীবন যাপন করতাম। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সব হারিয়ে আমি এখন পথে বসে গেছি। আমার গোষ্ঠীর সবার মিলে প্রায় ৬০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এ সব জমিজমা হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবো তা নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছি।

ধীতপুর গ্রামের আন্না খাতুন (রুমা) জানান, গত ১ বছর ধরে তিনি এক শিশু কন্যাকে নিয়ে কৃষি দিনমজুর বাবা আব্দুল লতিফ ও মা রেহানা খাতুনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। গত ৪/৫ দিন আগে তার বাবার বাড়িটি যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণের মুখে পড়ায় তাদের বসতঘরটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে শুণ্য ভিটায় অপর একটি পরিত্যাক্ত জরাজীর্ণ ভাঙ্গা ঘরে মা রেহানা খাতুন ও কোলের শিশুকন্যাকে নিয়ে বসবাস করছেন।

তিনি আরো জানান, জরাজীর্ণ ঘরটির এক পাশে রেড়া না থাকায় কুকুর, বিড়াল ও শিয়ালের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাছ ধরা ঝাকিজাল দিয়ে ঘিরে রেখেছে। গত কয়েক দিনে তাদের কেউ খোঁজখবর নেয়নি। সরকারি ১ কেজি চাল পেয়ে তা দিয়ে তাদের কোনো মতে জীবন চলছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সারমিন জানান, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণের চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। অসহায় ক্ষতিগ্রস্তদের পূণর্বাসনেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেছুর রহমান জানান, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নটি যমুনা নদীর চরাঞ্চল এলাকা হওয়ায় সেখানে আমাদের কোনো প্রকল্প নেই। ফলে ষেখানে আমাদের কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন প্রকল্প পাওয়া গেলে সেখানে অবশ্যই কাজ করা হবে।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   যমুনা  নদী ভাঙন  বাড়ি  ঘর  সিরাজগঞ্জ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: