ময়মনসিংহে বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিহত ৭ যাত্রীর মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নে। এদের মধ্যে নিহতদের চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রাশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা (২৫), মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সি ছেলে মিনাল এবং একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মা রাশিদা বেগম, দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনালকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মোফাজ্জল হোসেন লেবু। নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রথমে ময়মনসিংহে ও পরে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিলো তাদের। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।
পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। মা রাশিদা বেগম ও বিবাহিত মেয়ে মর্জিনাকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আগের দিন বাড়িতে আসেন তিনি।
মোফাজ্জল হোসেন লেবুর ভাবি ইসমতারা বলেন, আমার দেবর গাজীপুরে থেকে দিনমজুরের কাজ করতেন। শাশুড়ি, ভাতিজি ও নাতিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য গতকাল বাড়িতে এসেছিলেন। আমার ভাতিজি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। একসঙ্গে সবাইকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।
প্রতিবেশী সোহেল বলেন, একই পরিবারের চারজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মর্জিনা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সময়ের আলো/আতা