রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলি নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বদলি নীতিমালা-২০২৬ অনুসরণ না করে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষকদের পছন্দের বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।
এছাড়া পাঁচজনের কম শিক্ষক থাকা বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক বদলি এবং তদবিরের মাধ্যমে পছন্দের কর্মস্থল বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে
শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বদলির জন্য প্রায় আনুমানিক দেড় শতাধিক শিক্ষক আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত ২৫ জনের বদলি কার্যকর হয়েছে। তবে এসব শিক্ষককে নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে, আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠতা কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকটকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী শিক্ষকেরা।
২৭ বছর চাকরি করেও বদলি হননি বদলি নিয়ে অসন্তোষের অন্যতম কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন দূরের বিদ্যালয়ে চাকরি করেও বদলির সুযোগ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক।
গোদাগাড়ী উপজেলায় বসবাস করেন, এমন এক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার চাকরির বয়স ২৭ বছর। অথচ তাকে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে গিয়ে চাকরি করতে হচ্ছে। ওই শিক্ষক বলেন, অনেক দিন ধরে দূরে থেকে চাকরি করছি। বদলির আবেদন করেও সুযোগ পাইনি। অথচ ২০২৩ সালে নিয়োগ পাওয়া অনেক শিক্ষককে পছন্দের জায়গায় বদলি করা হয়েছে।
তার প্রশ্ন, চাকরির মেয়াদ ও জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করা হলে অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষকেরা কীভাবে পছন্দের বিদ্যালয়ে বদলির সুযোগ পেলেন? তবে তার আবেদন কেন বিবেচিত হয়নি এবং নবীন শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে কী মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষকদের অভিযোগ, পাঁচজনের কম শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, এমন কয়েকটি বিদ্যালয় থেকেও শিক্ষক বদলি করা হয়েছে। এতে আগে থেকেই শিক্ষকসংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষকদের ভাষ্য, বদলির আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংখ্যা, শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বদলি প্রক্রিয়ায় কিছু শিক্ষক নেতার তদবির এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একক সিদ্ধান্তে কাজ হওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের দাবি, বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট – কর্মকর্তাদের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় করা হয়নি।
তবে বদলি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, পাঁচ সদস্যের কমিটির সব সদস্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বদলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনমুন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/আতা