খেলা চলাকালীন দ্বিতীয়ার্থের শুরু থেকেই সাইডলাইনে গা গরম (ওয়ার্ম-আপ) করতে দেখা যাচ্ছিল নেইমার জুনিয়রকে। জাপানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠে নামাবেন— এমনটাই আশা করছিলেন হিউস্টন স্টেডিয়ামের হাজারো ব্রাজিল সমর্থক। গ্যালারি থেকে আসছিল ‘নেইমার’ ‘নেইমার’ স্লোগান। কিন্তু ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও মাঠে নামা হয়নি তার।
ব্রাজিল শেষ মুহূর্তে নাটকীয় জয় পেলেও সমর্থকদের মনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল— কেন পুরো সময় সাইডলাইনেই কেটে গেল নেইমারের? সোমবার (২৯ জুন) জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর সংবাদ সম্মেলনে সেই ব্যাখ্যাই দিয়েছেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
আনচেলত্তি জানান, নেইমারকে মূলত অতিরিক্ত সময়ের কথা মাথায় রেখে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেন, আমি ওর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। পরিকল্পনা ছিল ৬০ বা ৬৫ মিনিটের দিকে তাকে মাঠে নামানো। কিন্তু আমরা গোল করে সমতায় ফেরার পর আমি দলের ছন্দ ও ফরমেশন আর পরিবর্তন করতে চাইনি। কারণ তখন ম্যাচ পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। আমরা অতিরিক্ত সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তবে অন্তিম মুহূর্তে গোল চলে আসায় তাকে আর প্রয়োজন পড়েনি।
জাপানের বিপক্ষে এই ম্যাচে প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে গিয়েছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্থের শুরু থেকেই ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয় সেলেসাওরা। ৫৬তম মিনিটে হেড থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে (৯৬ মিনিট) গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির চমৎকার ফিনিশিংয়ে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
শেষ মুহূর্তে ত্রাণকর্তা বনে যাওয়া মার্তিনেল্লির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন কোচ। তিনি বলেন, ফুটবলার হিসেবে মার্তিনেল্লির তীব্র তাড়না রয়েছে। সে সবসময় প্রস্তুত থাকে এবং মাঠে নেমেই নিজের সেরাটা দেয়। সেই সঙ্গে দলের শক্তি ও গভীরতা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আনচেলত্তি যোগ করেন, আমাদের দলে মাঠে এবং বেঞ্চে অনেক বিকল্প রয়েছে। জাপান অত্যন্ত গতিময় ও গোছানো দল, তাদের বিপক্ষে এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
জাপানকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে পা রাখা ব্রাজিল এখন পরবর্তী প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় রয়েছে। নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে আগামী ৫ জুলাই নিউ জার্সিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সময়ের আলো/কহু