লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ও সড়ক দখল করে স-মিল (করাত কল) পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চর পাগলা গ্রামের মইনুল ইসলাম মাদ্রাসার উত্তর পাশে বিগত কয়েক বছর ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে।
সড়কের দুই পাশে স-মিলের বড় বড় গাছের গুঁড়ি ও কাঠ যত্রতত্র ফেলে রাখায় সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন রাস্তাটি ফেটে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স-মিল মালিক মৃত কুদ্দুস ব্যাপারীর ছেলে মো,বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সড়কের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি রাস্তার ওপর দিয়ে ভারী ও বিশাল আকৃতির গাছের গুঁড়ি টেনে-হিঁচড়ে তোলার কারণে নতুন চলমান কাজের রাস্তাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
করাত-কল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২ অনুযায়ী, সরকারি জায়গা বা রাস্তা দখল করে করাত কল পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জানা গেছে, প্রশাসন থেকে এর আগে মিলটি বন্ধের নোটিশ দেওয়া হলেও তা পাত্তাই দেননি মালিকপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জালাল আহাম্মদ ও বিবি মরিয়ম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ এবং মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। স-মিলের কারণে রাস্তাটি সংকীর্ণ ও নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই। তারা জনভোগান্তি দূর করতে এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় অতি দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে স-মিল মালিক বেলাল হোসেন দাবি করেন, আমার কাগজপত্র সব ঠিক আছে। আমি ব্যবসা করি, আমার দ্বারা সরকারের ক্ষতি হবে না।
অন্যদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান জানান, আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। অবৈধ কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ অবিলম্বে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনার মাধ্যমে এই অবৈধ স-মিল উচ্ছেদ এবং সড়কের পাশে থাকা গাছের গুঁড়িগুলো অপসারণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/আতা