ইতিহাসের বৃহৎ জমায়েতের প্রস্তুতি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের এক হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে

2026-07-03T02:39:24+00:00
2026-07-03T02:39:24+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইতিহাসের বৃহৎ জমায়েতের প্রস্তুতি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৯ এএম 
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা উপলক্ষে বড় জমায়েতের প্রস্তুতি ইরানে। ছবি : আলজাজিরা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের এক হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ছয় দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান প্রতিবেশী ইরাকসহ পাঁচটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। 

শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে খামেনির জানাজার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শুরু হবে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় একটি মিছিল শুরু হবে। মিছিলটি ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে এবং তারপর ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরের দিকে যাবে। আগামী ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ তার নিজ শহর মাশহাদে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। ইরান এবং ইরানের বাইরে থেকে বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

৩৭ বছর ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় তার মৃত্যুর পর থেকেই রাষ্ট্রীয় শোক চললেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দাফন অনুষ্ঠান পিছিয়ে যায় প্রায় চার মাস। দীর্ঘদিন যুদ্ধবিরতির আলোচনার পর তুলনামূলক শান্ত মুহূর্তে এসে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।
 
রাজধানী তেহরানেই প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। আর জন্মভূমি মাশহাদে চূড়ান্ত দাফনে উপস্থিত হতে পারেন আরও প্রায় এক কোটি মানুষ। এত বড় আয়োজনকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতিও নজিরবিহীন।

দেশটির রাজধানীর একাধিক মহাসড়ককে অস্থায়ী পার্কিংয়ে রূপান্তর করা হচ্ছে। মসজিদ, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে লাখো মানুষের অস্থায়ী আবাসন হিসেবে। তেহরানের ২২টি প্রশাসনিক এলাকায় দেশের ৩১টি প্রদেশ থেকে আসা শোকাহতদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনাও রাখা হয়েছে। 

পুরো লজিস্টিক পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যে বাহিনী খামেনির নেতৃত্বেই গত কয়েক দশক ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

অনুষ্ঠান চলাকালে বড় শহরগুলোতে প্রবেশে থাকবে কড়া নিয়ন্ত্রণ, বাতিল হতে পারে অনেক ফ্লাইট। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীজুড়ে চিকিৎসা শিবির স্থাপন করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। কয়েক কোটি মানুষের সম্ভাব্য সমাগম মাথায় রেখে প্রস্তুত রাখা হয়েছে শত শত চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম। 

শনিবার রাজধানীর মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক শোকানুষ্ঠান। সোমবার ইমাম হোসেইন স্কয়ার থেকে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শেষযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ৪ দশক আগে যে স্থানে রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে ইসলামি বিপ্লবের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল, সেই স্থানেই বিদায় জানানো হবে বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা এই নেতাকে।

এরপর মরদেহ নেওয়া হবে শিয়াদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র কোমে। সেখান থেকে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ শোকানুষ্ঠান। সবশেষে ৯ জুলাই জন্মভূমি মাশহাদে ফিরিয়ে এনে রাসুল (সা.)-এর বংশধর শিয়াদের অষ্টম ইমাম, ইমাম রেজার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে তাকে। 

জানাজা কাভারে ইরানে ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক : সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান কাভার করতে ইরানে প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে দেশটি। ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত কয়েক ধাপে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামি দিকনির্দেশনা-বিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০০ সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এসব অনুষ্ঠান কাভার করবেন। এর মাধ্যমে এই ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা হবে।

থাকছে ১০০ দেশের প্রতিনিধি : চলতি জুলাই মাসের ৪ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান। এতে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের অন্তত ১০০টি দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধি দল। এই অনুষ্ঠানকে ইরানি জাতি, অঞ্চলটির জনগণ এবং বিশ্বের মুসলমানদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাঘায়ি বলেন, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।

তিনি জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা ও বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এতে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্টজন এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে। বাঘায়ি আরও বলেন, শুক্রবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   ইতিহাস  বৃহৎ জমায়েত  ইরান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: