ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো এলাকা এখন কার্যত একটি বড় ধরনের প্রস্তুতি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মাত্র দুই দিন বাকি থাকায় শেষ মুহূর্তের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
মোসাল্লার ভেতরে ও আশপাশে একসঙ্গে কাজ করছে বিভিন্ন সরকারি ও সেবা সংস্থার দল। এর মধ্যে রয়েছে নির্মাণ, জরুরি সেবা, নিরাপত্তা, ফায়ার সার্ভিস, পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাংস্কৃতিক ও প্রচার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কর্মীরা। সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পুরো এলাকায় নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করছেন। বড় জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে জরুরি সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিড় ও গরমের প্রভাব কমাতে বিভিন্ন স্থানে শীতলীকরণ বা মিস্টিং সিস্টেম বসানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানস্থলে বিপুল পরিমাণ পানীয় জল মজুত করা হয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত পানির ফোয়ারা ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে, যাতে বড় সমাবেশেও পানীয় জলের কোনো ঘাটতি না হয়।
প্রযুক্তিগত ও নির্মাণ দলগুলো মোসাল্লার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো প্রস্তুত করছে, বিশেষ করে বাইরের এলাকা ও প্রধান বারান্দা, যেখানে বিদায়ী অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এই স্থানকেই কেন্দ্র করে পুরো কর্মসূচি পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
বড় ধরনের জনসমাগমের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও নির্মাণাধীন এলাকাগুলো বিশেষভাবে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সেগুলোতে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। মোসাল্লার কিছু অংশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
এ ছাড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও সুবিধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মোসাল্লা সাধারণ শোকাহত মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ