ভরা মৌসুমেও মেঘনায় ইলিশের আকাল, সংকটে হাতিয়ার লাখো মানুষের জীবিকা

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বর্ষা এলেই মেঘনার বুকে শুরু হয় রূপালি ইলিশের মৌসুম। নদীর ঘাটজুড়ে ভিড় জমে মাছভর্তি ট্রলার, আড়ত, বরফকল ও ক্রেতাদের। কর্মচাঞ্চল্যে

2026-07-04T19:08:08+00:00
2026-07-04T19:08:08+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ভরা মৌসুমেও মেঘনায় ইলিশের আকাল, সংকটে হাতিয়ার লাখো মানুষের জীবিকা
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৮ পিএম 
নদীতে ইলিশ মাছের খোঁজে জেলেরা। ছবি : সময়ের আলো
বর্ষা এলেই মেঘনার বুকে শুরু হয় রূপালি ইলিশের মৌসুম। নদীর ঘাটজুড়ে ভিড় জমে মাছভর্তি ট্রলার, আড়ত, বরফকল ও ক্রেতাদের। কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে উপকূলের জনপদ। কিন্তু চলতি মৌসুমে সেই চিরচেনা দৃশ্য যেন হারিয়ে গেছে। ভরা মৌসুমেও নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। দিন-রাত নদীতে জাল ফেলেও অধিকাংশ জেলে ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। এতে জেলে, শ্রমিক, আড়তদার, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকসহ এই খাতের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক মানুষের জীবিকায় নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।

গত কয়েক দিন হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট, বাংলাবাজার, বৌবাজার, কাজির বাজার, সূর্যমুখী, রহমত বাজার, কাদিরা সুইজ, বুড়িরদোনা, জঙ্গলিয়া, রাতারখাল, এম আলী সুইজ, নিঝুমদ্বীপ, কাটাখালী, চরচেঙ্গা, তমরদ্দি, সুখচর ও নলচিরাসহ বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ ঘাটই প্রায় ফাঁকা। নেই মাছ বোঝাই ট্রলারের ভিড়, বরফ ভাঙার শব্দ কিংবা আড়তের ব্যস্ততা। চায়ের দোকানগুলোতেও নেই জেলেদের প্রাণচাঞ্চল্য। চারদিকে বিরাজ করছে হতাশা আর উদ্বেগ।


প্রতি বছর এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়কে ইলিশের ভরা মৌসুম ধরা হয়। এ সময় জেলেরা সবচেয়ে বেশি মাছ পান এবং বছরের বড় অংশের আয়ও আসে এই মৌসুম থেকে। কিন্তু এবার মৌসুমের অধিকাংশ সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। প্রতিদিন নদীতে গেলেও অধিকাংশ ট্রলার ফিরছে খালি হাতে। যে অল্প কিছু মাছ মিলছে, তা বিক্রি করে জ্বালানি, বরফ, খাদ্য ও শ্রমিকের মজুরির খরচও উঠছে না।

হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে সরকারি হিসাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৯৫ জন। তবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জেলে পেশা, মাছের আড়ত, পরিবহন, বরফকল ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানুষের সংখ্যা লক্ষাধিক। 

জেলেরা জানান, মৌসুম শুরুর আগে অনেকেই এনজিও, ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জাল মেরামত, ট্রলার সংস্কার ও জ্বালানি সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা তো দূরের কথা, প্রতিদিনই নতুন করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।


চেয়ারম্যানঘাটের জেলে আব্দুল করিম বলেন, ‘ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নদীতে থাকি। কিন্তু জাল তুললেই হতাশ হতে হয়। আগে একবার জাল ফেললেই ভালো ইলিশ পাওয়া যেত। এখন কয়েকবার ফেলেও তেমন মাছ মিলছে না। সংসার চালানোই দায় হয়ে গেছে।’

সূর্যমুখী এলাকার ট্রলার মাঝি মো. সেলিম বলেন, ‘প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা খরচ করে নদীতে নামি। মাছ না পেলে সেই টাকা আর ফিরে আসে না। এভাবে চলতে থাকলে ট্রলার বন্ধ করে দিতে হবে।’

ইলিশের সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় আড়ত ও বাজারেও। মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেচাকেনা প্রায় স্থবির। অনেক ব্যবসায়ী কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না। কাজের অভাবে ঘাট শ্রমিকদের অনেকেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী মাসুম বলেন, ‘ভরা মৌসুমে সাধারণত ঘাটে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। এবার মাছ না থাকায় ক্রেতাও নেই, বেচাকেনাও নেই। প্রতিদিন লোকসান বাড়ছে।’

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান বলেন, ‘জাটকা নিধন, মা ইলিশ শিকার, নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তন, স্রোত ও লবণাক্ততার পরিবর্তন এবং উপকূলীয় এলাকায় শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীতে পড়ার মতো বিভিন্ন কারণে ইলিশের বিচরণ ব্যাহত হতে পারে। তবে, মৌসুম এখনও শেষ হয়নি। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী দিনগুলোতে মেঘনায় ইলিশের উপস্থিতি বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।’

সময়ের আলো/মহু



  বিষয়:   মেঘনা  ইলিশ  সংকট  হাতিয়া  জীবিকা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: