ইসরায়েলি কারাগারে সুদীর্ঘ ৪০ বছর বন্দি জীবন কাটানোর পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ফিলিস্তিনি মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম অবিসংবাদিত নেতা মাহের আব্দুল লতিফ ইউনিস। ৬৮ বছর বয়সে তার এই মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফিলিস্তিনি জনপদে। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’ তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘ চার দশক ধরে ইসরায়েলি বন্দিশালায় অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করেও অটল থাকা এই নেতা ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে মুক্তি পেয়েছিলেন। মুক্তির প্রায় আড়াই বছরের মাথায় আজ রবিবার তার মৃত্যুর সংবাদটি শোকাতুর ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে গভীর বেদনার সঞ্চার করেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেওয়া এবং ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা ‘ফাতাহ’-এর সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ১৯৮৩ সালের ১৮ জানুয়ারি মাহের ইউনিসকে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি বাহিনী। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। তার ওপর নেমে এসেছিল অবর্ণনীয় নিপীড়ন। প্রথমে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীকালে তা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর তার সাজার মেয়াদ ৪০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কারাবন্দি থাকাকালীন তিনি ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। তার চাচাতো ভাই কারিম ইউনিসও একই সময়ে কারাবন্দি ছিলেন, যা ফিলিস্তিনিদের আত্মত্যাগের এক অনন্য নজির হিসেবে গণ্য হয়। মুক্তির শেষ পর্যায়ে ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে তার নাগরিকত্ব বাতিলের অপচেষ্টাও চালানো হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সংগঠন জানিয়েছে, মাহের ইউনিসের জীবন ছিল ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এক অবিরাম লড়াইয়ের দলিল। তার মরদেহ নিজ শহর আরা’আরায় সমাহিত করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
সময়ের আলো/কহু